চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপ জুস কারখানায় বিস্ফোরণ, কারণ জানতে তদন্ত চলছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপ জুস কারখানার ভেতরে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে বোতল তৈরির একটি কক্ষে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন শ্রমিক আহত হন। বিস্ফোরণের পর কারখানার একটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় ভরে যায় ভেতরের পরিবেশ।

চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপ জুস কারখানায় বিস্ফোরণ, কারণ জানতে তদন্ত চলছে 1

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কারখানার ভেতরে জুসের জন্য ব্যবহৃত বোতল তৈরির মেশিনসংলগ্ন একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা কার্টন ও শিটসহ বিভিন্ন দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরে যায়। শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে আসেন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, খবর পাওয়ার পর চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা দ্রুত কাজ শুরু করে দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। তাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত কাউকে পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শাহ এমরান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন সামগ্রীতে। কারখানার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা তাঁদের জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে মোট ১১ জন আহত হয়েছেন এবং সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আবুল খায়ের গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) ইমরুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, বোতল তৈরির মেশিনের পাশের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া বের করার জন্য ওই কক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে দেওয়া হয়। আহতদের গ্রুপের নিজস্ব হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, তিনজন এখনও চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়লার বিস্ফোরণের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়।

তবে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতি-সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

ksrm