চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পায়ের রগ কেটে দেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার দুই পায়ের রগ কেটে এবং এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় এক যুবলীগ নেতাসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই আওয়ামী লীগ কর্মী। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড গোলাবাড়িয়া এলাকায়।
নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মোনাফের ছেলে।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় মেহেদী হাসান রানাকে, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অপর আসামিরা হলেন—নিশান, আলমগীর, জাহাঙ্গীর হোসেন (রনি), আশিক, সাইমন, আমির হোসেন, মহিন উদ্দিন। এরাও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, নিহত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মী মঞ্জুর আহমেদ পেশায় একজন বাস চালক। তার বাড়ির পাশে স্থানীয় ক্যাপ্টেন রানা নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি পুকুর দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত বর্গা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। ওই পুকুর সেচ দেওয়ার জন্য সেচ পাম্প স্থাপন করলে মেহেদী হাসান রানা ও তার লোকজন বাধা দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর মঞ্জুর আহমেদকে মুঠোফোনে কল দিয়ে পুকুর পাড়ে আসতে বলেন মেহেদী হাসান রানা। পুকুর পাড়ে যাওয়ার আগেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে আসামিরা মঞ্জুর আহমেদকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এক পর্যায়ে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান রানা মঞ্জুর আহমেদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। ১০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মঞ্জুর আহমেদের ছেলে আব্দুল্লাহ তাহিন বলেন, আমার বাবাকে যখন তারা এলোপাথাড়ি কোপাচ্ছে, আমি আমার বাবার বুকে পড়ে তাদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার চোখের সামনে আমার বাবাকে হত্যা করেছে মেহেদী হাসান রানা ও তার লোকজন। মামলার আসামি নিশান চার বছর আগে একটি খুনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। কিছুদিন আগে জামিনে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই। আমাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল আমার বাবা। এখন কিভাবে চলবে আমাদের সংসার ও পড়ালেখার খরচ। আমার বাবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।
তার বাবা কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং মেহেদী হাসান রানা ও তার লোকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার আসরের পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ পূর্বে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় মঞ্জুর আহমদকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। গত রোববার পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ডিজে




