আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা এলাকায় অবস্থিত তার পৈত্রিক বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মুখোশ পরে ও চাপাতি, দা, রামদা ও লোহার রড হাতে বাড়িতে ঢুকে আমিনুল ইসলামকে খুঁজতে থাকে। তিনি তখন বাড়িতে না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ঘরে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ঘরের আলমারি, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, এমনকি মূল্যবান কাগজপত্রও নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। যাওয়ার সময় ঘরের দরজা-জানালা, শোকেস, টিভি, ফ্রিজসহ সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেয়।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীরা বারবার উচ্চ স্বরে চিৎকার করে বলছিল, ‘আজকেই আমিনকে শেষ করে দিতে হবে!’
ঘটনার পর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এদিকে সাতকানিয়া থানায় একাধিকবার ফোন করলেও কেউ কল রিসিভ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই হামলার পেছনে বিএনপি, জামায়াত ও কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের পরিকল্পিত অংশগ্রহণ রয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদচ্যুত হওয়ার ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাঁচ শতাধিক থানায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, বহুজন নিখোঁজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি নেই, জনতা আতঙ্কিত হয়ে নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে। ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইলেও কোথাও থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।




