চট্টগ্রামে অনলাইনে গরুর হাট

0

চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে অনলাইনে গরু কেনাবেচা। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন গরুর ছবির নিচে বয়স, জাত, খাদ্য, ওজন ও দরসহ সব তথ্যই আছে। পছন্দের গরুটি অর্ডার দিয়ে চট্টগ্রামের দামপাড়ার অফিসে গিয়ে কার্ড কিংবা নগদ গরু পরিবহনের মূল্য পরিশোধের পরই গরু কেনার কাজ শেষ।

ভিড় ঠেলে গরু কেনার ঝামেলা এড়াতে অনেকে অনলাইনে গরু কিনছেন। অনেক খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরাও ফেসবুক পেইজে ছবি ও গরুর বিবরণ দিয়ে গরু ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

এক ক্রেতা জানান, অনলাইনে গরু কেনায় রোদ বৃষ্টি কিংবা ভিড় ঠেলে গরু কিনে রশি হাতে বাড়ি ফেরার কোন ঝামেলা নেই । ওয়েবসাইটে ঢুকে গরুর ছবি তথ্য দেখে অর্ডার দিয়ে গরু কেনার দায়িত্ব শেষ৷ নগদ কিংবা ক্রেডিড কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের পর বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে গরু।

বিক্রয় ডট কম, দারাজ বাজার, বেঙ্গল মিটসহ অনলাইন শপিংসহ ফেসবুকেও শুরু হয়েছে গরু বেচাকেনা। তবে বিক্রয় ডট কম ও দারাজ বাজার মুলত ক্রেতা-বিক্রেতার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন।

জানা গেছে, বিক্রেতারা অনলাইন শপের ওয়েবসাইটে তার গরুর ছবি, দাম, ওজন, জাত ও বিস্তারিত তথ্য দেন। ক্রেতা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে গরু দেখছেন। পছন্দ শেষে অর্ডার করে টাকা পরিশোধের পর পশু পৌঁছে দেওয়া হয়। আবার কিছু খামারিরা নিজেদের গরুর ছবি ও বিস্তারিত তথ্য তাদের ফেসবুক পেজে আপলোড করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে বিক্রয়ের কাজ করেন।

বেঙ্গলমিট নামের একটি প্রতিষ্ঠিান ২০১৬ সাল থেকে কোরবানির সময় তাদের নিজস্ব খামারের গরু অনলাইনে বিক্রয় করে আসছে। পাবনার কাশিনাথপুর বেঙ্গলমিট এর নিজস্ব খামার থেকে সারা দেশে পৌঁছানো হয় বলে জানা গেছে। দেশে -বিদেশে মাংস বিক্রয়কারী এই প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির সময় বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সারা দেশে ও দুবাই ,কুয়েত, সৌদি আরব, লন্ডনে গরু বিক্রয় করন।

এ বছর সারা দেশে দুই হাজারের মত গরু বিক্রয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

৬ জুলাই থেকে তাদের অনলাইনে গরু বিক্রয় শুরু হয়েছে । সোমবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত ৩০টি গরু বিক্রয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালে তারা সব মিলিয়ে ৩২টি গরু বিক্রয় করেছিলেন।

কোরবানির পর একটি নির্দিষ্ট ফরমে ক্রেতার মতামত, সুপারিশ, অভিযোগ গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা

ব্যাংকার মাসুদুজ্জামান নামের একজন বলেন, তিনি এবার অনলাইনে গরু কিনবেন। বাজারের ঝামেলা এড়াতে তিনি অনলাইনে গরু কিনতে আগ্রহী হয়েছেন।

বেঙ্গল মিটের বিক্রয় বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমরা কোরবানির সময় বিভাগীয় শহরের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এলাকায় অনলাইনে আমাদের নিজস্ব খামারের গরু বিক্রয় করি। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ঢাকায় গরু জবেহ ও প্যাকেট করে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেই। চট্টগ্রামে মোটামুটি সাড়া পাচ্ছি তবে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে গরু বিক্রয় করতে চাই।’

বেঙ্গল মিট চট্টগ্রাম শপ ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চট্টগ্রামে আমাদের পাবনা কাশিনাথপুর নিজস্ব খামার থেকে ক্রেতার ঠিকানায় গরু পৌঁছে দেই। এ সময় গরুর কোন রোগ হলে তার চিকিৎসাও প্রদান করি। চট্টগ্রামে অনলাইনে গরু বিক্রয় আরো বাড়াতে চাই।

বাংলাদেশে প্রথম ই-কমার্সের মুন্সীজি ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা ও পেকম ডট কমের সিও মুন্সী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্স দ্রুত বাড়ছে। অনলাইন শপগুলো কোরবানির সময় গরু বিক্রয়ে দারুণ সাড়া পাচ্ছে। চট্টগ্রামে অনলাইনে গরু বিক্রয় বিগত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে তবে পরিধি আরো বাড়বে।

উল্লেখ্য, অনলাইন ক্রয়ে ক্রেতাকে রশিদ, মোবাইল নাম্বারে ম্যাসেজ, ইমেইল করা হয়। কোরবানির একদিন আগে চট্টগ্রাম ও দুদিন আগে ঢাকায় ক্রেতার বাড়ি গরু পৌঁছে দেওয়া হয়। গরু বাসায় পৌছেঁ দেওয়ার পর অসুস্থ হলে বিক্রেতার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ঢাকায় গরু জবেহ, মাংস কেটে প্যাকেট করে দেওয়া বাবদ আঠারো হাজার টাকা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রামে এই সার্ভিস এখনো চালু হয়নি।

এসএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন