চট্টগ্রামের ৫ এলাকা ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’, খুলশী-সুগন্ধার ছাদবাগান এডিস মশার বাসা

আগ্রাবাদ-ডবলমুরিংয়ে গাড়ির টায়ার-টিউবে মশার বংশবিস্তার

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ এলাকা হয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর হটস্পট। এগুলো হচ্ছে হালিশহর, আগ্রাবাদ, ডবলমুরিং, সুগন্ধা ও খুলশী। এসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গুর উপদ্রবের মূল কারণ হিসেবে তারা কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে হালিশহর এলাকার জলাবদ্ধতা, আগ্রাবাদ ও ডবলমুরিংয়ে অটোমোবাইলসের দোকানের টায়ার-টিউবে পানি জমে থাকা এবং সুগন্ধা ও খুলশী আবাসিক এলাকার ছাদবাগানে পানি জমে থাকা। এসব কারণে এডিস মশার অস্তিত্বও ওই এলাকাগুলোতে মিলছে বেশি। এডিস মশা সেখানে বংশ বিস্তার করছে নিরাপদে।

আর এজন্য চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে— স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাও।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, ‘মূলত জলাবদ্ধতা, ছাদবাগান, টায়ার টিউবই ডেঙ্গু মশার জন্য দায়ী। আমরা শনিবারও (১৫ অক্টোবর) অভিযানে গিয়ে সুগন্ধার কয়েকটি বাসার ছাদবাগানে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছি।’

অন্যদিকে হালিশহর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জমানো পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে ও বংশ বিস্তার করছে। আর আগ্রাবাদ-ডবলমুরিংয়ে অটোমোবাইলসের দোকানে যে টায়ার-টিউব রাখা হয়,তার অর্ধেকটাই রাখা হয় দোকানের বাইরে ফুটপাতে। আর স্টকের মালগুলো রাখা হয় ছাদে। এসব টায়ার-টিউবে সহজেই বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা চোখের আড়ালেই থাকে। আর সেখানেই এডিস মশার বিস্তার হয়ে থাকে।

এদিকে একলাফেই চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৮৩ জন। মারা গেছে নুসরাত নামের নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুই দিন আগে ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেলে শিশুটিকে ভর্তি করানো হয়েছিল। শিশুটির বাসা খুলশীতে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেছেন, খুলশী ও সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদবাগানে পানি জমে থাকায় সেখানে নির্বিঘ্নে এডিস মশা বংশবিস্তার করছে। শনিবারও সুগন্ধা আবাসিকের কয়েকটি বাসার ছাদবাগানে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা।

Yakub Group

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কিছু এলাকাকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধিদল। তারা যেসব স্পটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে, তার মধ্যে রয়েছে আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা, হালিশহর, সিডিএ আবাসিক এলাকা, ডবলমুরিং ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালসহ আরও কিছু এলাকা। আইইডিসিআর প্রতিনিধিদলের দেওয়া তথ্য মতে, এসব স্পটে বেশি মাত্রায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শনিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ জন, মহিলা ৬ জন আর শিশু ৪ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ডেঙ্গুর গত ২৪ ঘন্টার চিত্রটি উদ্বেগজনক। একলাফে আক্রান্ত হয়েছে ৮৩ জন। সকল চিকিৎসাকেন্দ্রে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, জ্বরে আক্রান্ত বা কোভিড পরীক্ষা করাতে কেউ আসলে অথবা সন্দেহ হলে যেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘মানুষকে সচেতন আচরণ করতে হবে। নিজের বাড়িতে এডিস মশা না থাকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। আর জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।’

এদিকে জানা গেছে, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যক্রম চালালেও তা নিয়মিত নয়। মাঝেমধ্যে দেখা যায়, নালায় কিছু ওষুধ ছিটানো হয়। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম দেখা যায় না।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাশেম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্প্রে ও ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। আগের চেয়ে লোকবল বাড়ানো হয়েছে। আগে ১০৪ জন ছিল। এখন তা বেড়ে ২০৪ জন হয়েছে। এখন আমরা নতুন আরও একটি ওষুধ স্প্রে করার চিন্তা করছি মশা নিধনের জন্য। দেখি তা কতটুকু কার্যকর হয়।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm