চট্টগ্রামের ৩ পর্যটক কাশ্মীরের হাউসবোট বিস্ফোরণে নিহত

ভারতের কাশ্মীরের আগুন লেগে নিহত তিন বাংলাদেশি পর্যটকের সবার বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ওই তিনজনের মধ্যে কার লাশ কোনটি তা শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করতে পরিবারের সদস্যদের ভারতে যাওয়ার জন্য বলেছে ভারতের স্থানীয় প্রশাসন।

কাশ্মীরে হাউসবোটে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মাঈনুদ্দীন, ইমন ও অনিন্দ্য কৌশল

শনিবার (১১ নভেম্বর) ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ডাল লেকে কয়েকটি হাউজবোটে আগুন লেগে নিহত হন তারা।

নিহতরা হলেন রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিন্দ্য কৌশল, গণপূর্ত চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমন দাশ গুপ্ত ও ঠিকাদার মো. মাঈনুদ্দীন।

মাঈনুদ্দীন ও ইমনের বাড়ি রাউজান উপজেলায়। আর অনিন্দ্য কৌশলের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়। অনিন্দ্য ৩০তম বিসিএস এবং ইমন ৩৩ তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।

তারা তিনজনই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে তারা অগ্নি দুর্ঘটনায় পড়েন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার (১১ নভেম্বর) ভোর সোয়া ৫টার দিকে ডাল লেকের নয় নম্বর ঘাটের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে একটি হাউজবোটে আগুন লাগে এবং পরে তা পাশে নোঙর করে রাখা আরও চারটি হাউজবোটে ছড়িয়ে পড়ে।

মাঈনুদ্দীনের চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গত ৩ নভেম্বর তারা তিনজনই চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে যান। এর মধ্যে গতকাল দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের স্থানীয় প্রশাসন পরিচয় শনাক্ত করতে রক্তের আত্মীয় কাউকে যাওয়ার জন্য বলেছেন। আমরা ভিসার জন্য প্রসেসিং করছি। নিহত মাঈনুদ্দীন এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা। মাঈনুদ্দীনের বড় মেয়ে নবম শ্রেণিতে এবং ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।’

চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ জানান, ‘এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না ইমন নেই। ভারতের পত্র-পত্রিকার খবর থেকে শুরুতে আমরা ঘটনা জানতে পারি। পরে সেখানকার অথরিটি পরিচয় নিশ্চিত করেছে। আমরা পরিবারের একজনকে হারালাম।’

রাঙামাটি গণপূর্তের কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী জয় বড়ুয়া জানান, ‘অনিন্দ্য কৌশল স্যারের আজমীর শরীফ যাওয়ার কথা। সেখান থেকে কাজ শেষে কাশ্মীরে যাচ্ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা…। কিছুই বুঝতে পারছি না।’

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, পুড়ে যাওয়া পাঁচটি হাউজবোটের মধ্যে একটিতে তিন বাংলাদেশি পর্যটক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাতজন।

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!