চট্টগ্রামের ১৭ থানায় আটক ২৯৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায়, ১৫২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান
সন্ধ্যা নামতেই জমে উঠেছিল আড্ডা। কেউ বাজারের অলিগলিতে, কেউ রেলস্টেশনের আশপাশে, কেউ মাঠে কিংবা নির্জন কোনো স্থানে। কোথাও আবার দলবেঁধে কিশোরদের উপস্থিতি। হঠাৎ এসে থামে পুলিশের গাড়ি। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ, পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে থানায় নেওয়া হয় শত শত কিশোরকে। কিশোর অপরাধ, মাদক ও অপরাধপ্রবণ আড্ডা নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানায় এমনই সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযানে আটক করা হয়েছে ৪৪৫ জনকে, এর মধ্যে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো তথ্য এবং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালানো অভিযানে কিশোরসহ মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থান এবং কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্পটগুলোতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা নয়; বরং অপরাধপ্রবণ পরিবেশ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ঠেকানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের শনাক্ত করা।
অভিযানে ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা ও অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। মোট ১৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম জানান, সন্ধ্যার পর কোনো কিশোরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন, মাঠ বা অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, মোবাইল গেমিংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিজে




