চট্টগ্রামের স্টেশন রোডে প্রকাশ্যে যুবক খুন, নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড শুক্কুরের মাদকব্যবসা

চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের পাখি গলিতে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায়। খুনে জড়িত দুই যুবক ধরা পড়লেও জুয়েল ও শুক্কুরসহ খুনের মূল হোতাদের এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে তুলাতলী বস্তিসহ রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় সদর্পেই চলছে শুক্কুরের মাদকব্যবসা।

রোববার (৭ জুলাই) রাতে নগরের স্টেশন রোডের পাখি মার্কেট গলিতে নিহত ওই ব্যক্তির নাম সাহেদ হোসেন মনা (২৮)। রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং ও মাদকব্যবসায়ীদের একটি চক্র তাকে প্রকাশ্যে খুন করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্বজনরা দাবি করেছে, এক যুবলীগ নেতার মদদে সন্ত্রাসীরা মনাকে হত্যা করেছে।

সাহেদ হোসেন মনা নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। মীরসরাই উপজেলার মায়ানি ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানি গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে মনা ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। তবে তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (৭ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাখি গলিতে খাবার কিনতে যান সাহেদ হোসেন মনা। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাখির খাবারের দোকানে ঢুকিয়ে শাটার বন্ধ করে মনাকে অন্তত ১০ জন এলোপাতাড়ি পেটায়। পরে তার পায়ের রগ কেটে দেয় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মনা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় শুক্কুর ও জুয়েলের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং ও মাদকব্যবসায়ীদের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা এসব অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারাই এই খুনে জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর গোয়ালপাড়া তুলাতলী বস্তিকে কেন্দ্র করে মাদকব্যবসার বড় আস্তানা গড়ে তুলেছেন চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী শুক্কুর। শামসুল ইসলাম ওরফে মাছো শামসুর এই ছেলে ইয়াবা থেকে মদ, এমনকি পাহাড়ি মদের ব্যবসা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। শুক্কুরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি মাদক মামলা, রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ফোরম্যানের ওপর হামলার মামলা ছাড়াও চকবাজার থানায় গাড়ি চুরির মামলা রয়েছে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে মনা খুনের ঘটনায় তার বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ফরহাদ ও সজীব নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালী এলাকার ৭ নম্বর বাস পার্কিং এলাকার ভাসমান বাসিন্দা জুয়েল (৩২) ও রহিম (২৬), নুপুর মার্কেটের জুয়েল প্রকাশ মুরগী জুয়েল (৩২), আলকরণ ৩ নম্বর গলির মো. সজীব (২৪), শেখ ফরহাদ (২২), পটিয়ার কচুয়াইয়ের বাসিন্দা শেখ ফরহাদ (২২), গোয়ালপাড়া তুলাতলী বস্তির মো. শুকুর (৩৫), পূর্ব মাদারবাড়ি কামাল গেইটের হানিফ ও মাছ হানিফ (৩৫), উত্তর নালাপাড়া বাচুনীর মার কলোনির সবুজ (৩২), রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভাসমান বাসিন্দা সাগর (২৮) ও শাটল (২০), কদমতলীর বশির ওরফে টিউমার বশির (৩০), স্টেশন কলোনির ইকবাল (৩১) ও শাকিল (২০)।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মনা একসময় নিউ মার্কেট এলাকার হকার হিসেবে ব্যবসা করতেন। ওই সময় আসামিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ঘটনার বর্ণনায় এজাহারে বলা হয়, ১৫-২০ দিন আগে মনার পূর্বপরিচিত এক ছেলের কাছ থেকে জুয়েল ও রহিম নামে দুজন মোবাইল ছিনিয়ে নেন। পরে মনা ফোন করেন জুয়েলের কাছে মোবাইল ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চান। জুয়েল ওই সময় মারমুখী আচরণ করেন। এরপর রোববার রাতে মনা পোষা বিড়ালের খাবার কিনতে পাখি গলিতে যান। তখন জুয়েলসহ অন্যরা মনাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জুয়েল, সাগর, বশির ও শাকিল তাকে ছুরিকাঘাত করেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!