দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ খুলেছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের। নির্বাচনে জয়লাভ করেও আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল তার সংসদে যাওয়ার পথ। তাই অনেকের কাছে তিনি এখন ‘চাঁদকপালের’—শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়েছে, উন্মুক্ত হয়েছে সংসদের দুয়ার।
ঋণখেলাপি অভিযোগে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম বিএনপির দুই নির্বাচিত প্রার্থী—সীতাকুণ্ডের আসলাম চৌধুরী ও ফটিকছড়ির সারোয়ার আলমগীরবিজয়ের পরও সংসদে যেতে পারেননি। তবে সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে দুজনের ভাগ্যচিত্র। আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি এখনও আইনি জটিলতায় থাকলেও সারোয়ার আলমগীরের ক্ষেত্রে অবসান হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের ফলে তার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আপিলের পর আপিল বিভাগ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন সারোয়ার আলমগীর। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার কারণে তার বিজয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ আটকে ছিল।
পরে আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। এর মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হলো। এখন নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর ফটিকছড়ির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে বসার সুযোগ পাবেন সারোয়ার আলমগীর।
এদিকে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফটিকছড়িতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি মিঞাঁ মোশরাফুল আনোয়ার মশু বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আজকের এ রায়ের মাধ্যমে ফটিকছড়িবাসীর বিজয় হয়েছে। ফটিকছড়ির মানুষ একজন নিরহংকার ও পরোপকারী নেতাকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী বলেন, এ রায় জনগণের রায়। জামায়াত প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের প্রার্থীকে হয়রানি করেছে। হাইকোর্টের এ রায়ের মধ্য দিয়ে ফটিকছড়িবাসীর বিজয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফটিকছড়ির মানুষ বিপুল ভোটে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু গত চার মাস আইনি জটিলতার কারণে ফটিকছড়ির মানুষ উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সারোয়ার আলমগীর তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে, সত্যেরই বিজয় হয়েছে। এই বিজয় শুধু আমার নয়—এটি প্রিয় ফটিকছড়িবাসীর আস্থা, ভালোবাসা ও দোয়ার বিজয়। যারা সব সময় পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।
তিনি আরও বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের প্রতিও কোনো বিদ্বেষ নেই—রইল ভালোবাসাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই পারে সব শত্রুতা ও বিরোধিতাকে জয় করতে। ইনশাআল্লাহ, ফটিকছড়ির মানুষের কল্যাণে আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।
ডিজে




