চট্টগ্রামের মেয়র পদে হঠাৎ আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা

0

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে উত্তর ঢাকা সিটি কর্পোরেশেনের মতো কোনো ব্যবসায়ী নেতাকে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যে মানসিকতা, তাতে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও এমন কোন সিদ্ধান্ত নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্য থেকে এই পদে আসার বিষয়ে আলোচনায় রয়েছেন এফবিসিসিআই ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম নুরু, সদ্য একুশে পদক পাওয়া সুফি মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের ডিরেক্টর এসএম আবু তৈয়ব।

শুরু থেকেই ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতও করেছেন তিনি। তবে সেই সাক্ষাতের পর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সদ্য একুশে পদকের জন্য মনোনয়ন পাওয়া সুফি মিজানুর রহমান মিজানকে নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়েছে নগরে। তবে সুফি মিজানের ঘনিষ্ঠজনরা সে আলোচনা নাকচ করে দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্য থেকে আলোচনায় থাকা অন্য দুজন নুরুল ইসলাম নুরু এবং এস এম আবু তৈয়বও বলছেন তাদের নিজেদের এই বিষয়ে আগ্রহ নেই। যদি দল ও প্রধানমন্ত্রী তাদের দায়িত্ব দিতে চান তবে সেই দায়িত্ব মাথা পেতে নেবেন তারা। তবে চট্টগ্রামে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বলেই মনে করেন তারা। সব সুযোগ থাকার পরও চট্টগ্রাম এখনো আন্তর্জাতিক শহর হিসেবে গড়ে উঠেনি দাবি করে তারা বলছেন, মেয়র পদে অর্থনৈতিক বিষয়ে জ্ঞান থাকা কাউকে দায়িত্ব দিলে এক মাসের মধ্যেই নগরের উন্নয়নে দৃশ্যমান অনেক কিছুই করা সম্ভব। ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে সফল এই দুই নেতাই ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কর্মজীবনেও আওয়ামী লীগের হয়ে ব্যবসায়ী ফোরামগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন তারা। নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের সাথে আলাপ আলোচনাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে দায়িত্বশীল বেশ কিছু জায়গা থেকে আলাপ করা হয়েছে। আমি বলেছি আমার ব্যক্তিগত কোন আগ্রহ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন আমার এখানে সার্ভিস দেওয়ার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমি অবশ্যই এই পদে প্রার্থী হব। আজকেও শুভাকাঙ্খীদের অনেকে ফোন করেছেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু আমি শুধুমাত্র ওপরমহল থেকে নির্দেশ পেলেই মনোনয়ন নেবো। অন্যথায় নেবো না।’

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এক মাসেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব। এসবের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে আর আন্তরিক হতে হবে, যেটা ঢাকায় আনিসুল হক করে দেখিয়েছেন। আমাদের সমাজে একটা বিষয় আছে ডাক্তার, উকিলসহ অন্যান্য পেশার লোকজন রাজনীতি করলে তখন সেটা স্বাভাবিকভাবে নেয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আলাদা মানসিকতা। কিন্তু সবগুলোই তো পেশা, রাজনীতি তো পেশা হতে পারে না। উন্নয়নের গতিশীলতার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বরং সফল ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’

পাশাপাশি মেয়রের মত দায়িত্বে আসার ক্ষেত্রে বাকি সব কিছুকে একপাশে রেখে দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি। এসএম আবু তৈয়ব বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে কত কাজ। এক সাথে অনেক দায়িত্ব পালন করলে তো মূল কাজে আপনি সফল হতে পারবেন না। আমাদের এখানে হয় কি, একই লোক সিটি মেয়র হয়, দলেরও পদে থাকে। সেখানে আবার গ্রুপিং। কিন্তু এসব জায়গায় যিনি নির্বাচিত হবেন তার সবাইকে নিয়ে কাজ করা উচিত। ২৪ ঘন্টা এই প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়া উচিত। যেটা আনিসুল হক করেছিলেন, চট্টগ্রামেও যিনি মেয়র হবেন তাকে সব বাদ দিয়ে সিটি কর্পোরেশন নিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে অনেক সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যায়। অন্যান্য সেবা সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নিজস্ব একটা স্টাইল ছিল।’

তবে চট্টগ্রামে এই মুহুর্তে ঢাকা উত্তরের মত প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়নি বলে দাবি স্বেচ্ছাসবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রচার উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম নুরুর। যদি কোনো কারণে ব্যবসায়ী নেতাদের কাউকে বেছে নিতে হয় সেক্ষেত্রে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখা ব্যবসায়ীদের বেছে নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে এই শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘ঢাকা উত্তর আর চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট এক নয়। তবে এটি ঠিক বাণিজ্যিকভাবে চট্টগ্রাম গুরুত্ব রাখে। এই শহরটি এখনও আন্তর্জাতিক শহর হয়ে উঠেনি। এই শহরে মেয়র হিসেবে এমন কাউকে দরকার রাজনৈতিক মেধার সাথে অর্থনৈতিক বিষয়েও যার জ্ঞান রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ব্যবসায়ী নেতাকে যদি বেছে নিতে হয় তবে এমন কাউকেই যেন বেছে নেয়া হয় যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ব্যবসায়ী ফোরামগুলোতে যারা সরকারের সমর্থনে কাজ করেছেন।’

সিটি নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে ওয়েল গ্রুপের সিইও নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘আমার বড় ভাই সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম মনোনয়ন চাইছেন। আমাদের পরিবারের সিদ্ধান্তও এটাই। আমি মনোনয়ন চাইবো না। তবে যদি ব্যবসায়ীদের নিয়ে চিন্তা করা হয় তবে আমিও দাবি রাখি। সেই প্রশ্নে আমি মনোনয়ন চাইবো।’

এআরটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন