চট্টগ্রামের ‘ব্রাজিল গলি’: হলুদ-সবুজ রঙের ছোঁয়ায় তারকা খেলোয়াড়দের গ্রাফিতি

সড়ক পেরিয়ে গলি দিয়ে ঢুকতেই বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে শুরু করে দেয়াল বাড়ির দেয়ালগুলোতে চোখে পড়বে ব্রাজিলের পতাকা। আঁকা হয়েছে কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে-ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে মেসি-নেইমার-রোনালদোদের প্রতিকৃতি। হাঁটতে হাঁটতে দেখা মিলবে ব্রাজিল সমর্থকদের ভালোবাসার চিত্র, যেন সবুজ-হলুদের সেজেছে পুরো গলি। ব্রাজিল সমর্থকদের এমন কাণ্ডে এই গলির নাম ‘ব্রাজিল গলি’।

চট্টগ্রামের ‘ব্রাজিল গলি’: হলুদ-সবুজ রঙের ছোঁয়ায় তারকা খেলোয়াড়দের গ্রাফিতি 1

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের খতিবপাড়া এলাকায় ঢুকলেই দেখা মিলবে এমন চিত্র। যেন চট্টগ্রামের বুকে এক টুকরো ব্রাজিল। দেয়ালের পর দেয়ালজুড়ে আঁকা ফুটবল কিংবদন্তিদের ছবি, ভবনের ছাদে উড়ছে বিশাল ব্রাজিলের পতাকা, আর পুরো গলিজুড়ে হলুদ-সবুজের আধিপত্য।

স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে সাজানো এই গলিতে স্থান পেয়েছে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাস গড়া তারকাদের ছবি। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো, নেইমারের পাশাপাশি দেয়ালে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিরাও। এমনকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবিও দেখা গেছে গলির বিভিন্ন দেয়ালে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থী দিন-রাত পরিশ্রম করে রং-তুলির আঁচড়ে পুরো গলিটিকে ফুটবল উৎসবে রূপ দিয়েছেন। গলির প্রবেশমুখে টাঙানো হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়দের ব্যানার। এছাড়া বিভিন্ন দেয়াল ও ভবনের পিলারে লেখা হয়েছে খেলোয়াড়দের নাম ও জার্সি নম্বর।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুধু ব্রাজিল সমর্থকই নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ গলিটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ ফুটবল নিয়ে তর্কে মেতে উঠছেন।

তবে ব্রাজিল সমর্থকদের আধিপত্য থাকলেও এই পাড়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিও কম নয়। স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা মজা করেই বলছেন, গলি ব্রাজিলের হতে পারে, কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তো আর্জেন্টিনা।

অনেকেই আবার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি টেনে এনে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

এই গলিটি ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে থাকলেও এই পাড়ায় রয়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও। নিয়মিতই তারা জড়ান তর্কযুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনার সমর্থক নাসির উদ্দিন বলেন, এখানকার ব্রাজিল সমর্থকরা এবার এটিকে একটু ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে। ব্রাজিল গলি হিসেবে পাড়াটিকে পরিচিত করছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু আর্জেন্টিনা তো আর্জেন্টিনাই। আমরা প্রথম বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিলাম, বর্তমানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল অতীতে কী অর্জন করেছে, তা নিয়ে লাফালাফি করলে হবে না। বর্তমানে আমরাই চ্যাম্পিয়ন দল।

স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থক মোহাম্মদ সামি বলেন, আমাদের এক বড় ভাইয়ের উদ্যোগে এই গলির নাম দেওয়া হয়েছে ব্রাজিল গলি। ব্রাজিলের টানে সবাই এখানে আসছে, এটা দেখে খুব ভালো লাগছে।

ব্রাজিলের আরেক খুদে সমর্থক শরিফুল হাসান বলেন, এখানে ব্রাজিলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের ছবিও আঁকা হয়েছে। কারণ তারাও আমাদের ভাইয়ের মতো।

স্থানীয় বাসিন্দা জাফর সওদাগর বলেন, এলাকার ছেলেরা এই উদ্যোগ নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ দেখতে আসছে। ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে আমাদের ভালো লাগছে।

ব্রাজিল গলির রূপকারদের একজন খালেদ চৌধুরী বলেন, রনি সাজ্জাদ এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। এখানে বিভিন্ন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের ছবি রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এবার ব্রাজিল শিরোপা জিতবে।

খালেদ চৌধুরীর পাশাপাশি এই উদ্যোগের প্রধান উদ্যোক্তা এলাকার ব্রাজিল সমর্থক রনি সাজ্জাদ। তার সঙ্গে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজেদুল সুমন, সালাউদ্দিন, কাইয়ুম উদ্দিন, সজিব ও খালেদ চৌধুরীর মতো ফুটবলপ্রেমীরা। কয়েক দিন ধরে রং-তুলি হাতে দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা সাজিয়ে তুলেছেন পুরো গলিটি।

সব মিলিয়ে ‘ব্রাজিল গলি’ এখন শুধু একটি গলি নয়; এটি ফুটবলপ্রেম, আবেগ আর বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক ছোট্ট উৎসবের স্থানে পরিণত হয়েছে।

ডিজে

ksrm