চট্টগ্রামের বৌদ্ধ বিহারের শতবর্ষী অষ্টধাতু মূর্তি চুরি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের একটি বৌদ্ধ বিহার থেকে শত বছরের পুরনো একটি বুদ্ধ প্রতিবিম্ব ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পটিয়া থানা পুলিশের একটি টিম। চুরির ঘটনায় ওই এলাকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সোমবার (২ জুলাই) মধ্যরাত আনুমানিক ৩-৪টার মধ্যে মুকুট নাইট ধাতু চৈত বৌদ্ধ বিহারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে ধলঘাট ইউনিয়নের মুকুট নাইট বৌদ্ধ বিহারের তালা ভেঙে চোরের দল বিহারে প্রবেশের করে একটি অষ্ট ধাতুর ২-৩ ফুট উচ্চতার (সোনা, রূপা, পিতল, তামা, লোহা, সিসা) তৈরি অত্যন্ত দামি, শত বছরের পুরনো বুদ্ধ প্রতিবিম্ব ও দানবাক্সের টাকা চুরি হয়।

মঙ্গলবার ভোরে বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত অনোমদর্শী মহাথের সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকটি মূর্তির মাঝে অষ্টধাতুর প্রতিবিম্বটি নেই। এসয়ম তিনি বিহারের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিহার কমিটিকে জানালে তারা সেখানে ছুটে যান। এরপর পটিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম দিদার ও ধলঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনবীর ঘোষ টুটুন।

স্থানীয় বাসিন্দা হিরো বড়ুয়া বলেন, একটি চক্র পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কেননা বিহারে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব থাকলেও সেগুলোতে চোর চক্র হাত দেয়নি৷ অথচ অষ্ট ধাতুর তৈরি সবচেয়ে দামি ও ওজনে ভারী প্রতিবিম্বগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। এতগুলো প্রতিবিম্বের মাঝে অষ্ট ধাতুর তৈরি প্রতিবিম্ব খুঁজে বের করা সহজ নয়।

বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত অনোমদর্শী মহাথের বলেন, অষ্ট ধাতুর তৈরি একটি বুদ্ধ প্রতিবিম্ব চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বিহারের দানবাক্সে থাকা আনুমানিক ১ থেকে দেড় লাখ টাকা চুরি হয়েছে। বৌদ্ধ মূর্তিটি প্রায় শতবছরের পুরনো।

বিহারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিলন কান্তি বড়ুয়া বলেন, চোরের দল বিহারের তালা ভেঙে অষ্টধাতুর প্রায় ৪৫-৫০ কেজি ওজনের পুরনো মুর্তিটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এরকম অষ্টধাতুর মূর্তি অত্র এলাকায় আর কোনো বিহারে নেই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, এ চক্রকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের। কেননা প্রতিবিম্ব চুরির ঘটনা শুধু চুরিই নয়, আমাদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাতও।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা বিস্তারিত তদন্তের পর জানাতে পারব। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিহারে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ঘটনাস্থলের ফুটেজ সংগ্রহ করা যায়নি। বিহারের পক্ষ হতে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুরি হওয়া শতবছরের পুরনো মূর্তিটি উদ্ধার করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!