চট্টগ্রামের পুলিশের হাতে আমেরিকার দেওয়া অস্ত্র, দেড় লাখ ডলারের চালান

বাংলাদেশ পুলিশকে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিচ্ছে আমেরিকা। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলাসহ পুলিশের অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এসব সরাঞ্জাম দিচ্ছে দেশটি। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশও। ৯টি শিপমেন্টে আসছে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।

এগুলো খালাসে সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে। অপারেশনাল দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সেনসেটিভ ইকুয়েপমেন্ট’ হিসেবে এসব আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ বাংলাদেশ পুলিশকে যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে বলে সরকারি এক নথি সূত্রে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখার এক নথিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের অ্যান্টি টেরোরিজম অ্যাসিসটেন্স’ প্রোগ্রামের আওতায় চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের এই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি দেওয়া হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম পুলিশের অপারেশনাল দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করবে। আমেরিকান দূতাবাস ঢাকার ইস্যুকৃত ডিপ্লোমেটিক নোট নম্বর-ডি১-১২৫৭৪ মোতাবেক ৯টি শিপমেন্টে এসব আগ্নেয়াস্ত্র আসছে বাংলাদেশে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ৯২৭৮ নম্বর শিপমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাতে ১৪ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম রয়েছে। এর মার্কিন বাজারমূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৬০ ডলার। অস্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৩২টি ৫.৫৬ মিলিমিটারের এম-৪ কোল্ড কারবাইন রাইফেল, ৬৪টি পিস্তল, ৩২টি কনভারসেশন কিট এবং বিপুল পরিমাণ গুলিসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম। এই ধরনের আরও আটটি শিপমেন্টে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (অস্ত্র ও গোলাবারুদ) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ভ্যাট-ট্যাক্সের বিষয় আছে। এ বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি।

আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ খালাসের বিষয়ে গত ১৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়, পুলিশের অনুকূলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক এসডি, আরডিসহ সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মওকুফ করার অনুরোধ করা হলো। এ ছাড়া আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ইস্যু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!