আক্রান্ত
২৯৪৩
সুস্থ
২২৪
মৃত্যু
৭৫

চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে সন্দেহের নির্মম বলি বয়সী মহিলা

মৃত্যুর পর রিপোর্ট এলো করোনা ছিল না তার

0

বয়সী মহিলাটি ভুগছিলেন জ্বর ও তীব্র শ্বাসকষ্টে। তীব্রতা বেড়ে গেলে তাকে ভর্তি করানো হয় চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালের আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)। হঠাৎই ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের মনে হল ওই মহিলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। মুহূর্তেই হাসপাতালটির পরিচালক এসে বৃদ্ধাকে আইসিইউ থেকে বের করে দিলেন। আর এর মাত্র একঘন্টার মধ্যে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হল। তার স্বজনরা আকুতিমিনতি জানালেও মন গলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। মৃত্যুর পর দিন সীতাকুণ্ডের বিশেষায়িত হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) থেকে রিপোর্ট এলো ওই মহিলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।

এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)। মারা যাওয়া মমতাজ জাহানের (৬৫) বাড়ি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পন্থিছিলায়। তিনি মাহমুদুর রহমান চেয়ারম্যান বাড়ির রফিক আহমেদের স্ত্রী।

জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) মমতাজ জাহানের জ্বর বেড়ে গেলে তাকে চিকিৎসা দিতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোথাও কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। পরে স্বজনরা তাকে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গুরুতর অসুস্থতার পরও ভর্তির সময় ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের কেউ বিদেশ থেকে এসেছে কিনা, বাড়ির পাশে কেউ এসেছে কিনা— এমন সব প্রশ্নে কালক্ষেপণ করে। অবস্থার অবনতি হতে থাকলে শেষপর্যন্ত তাকে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) ভর্তি করানো হয়।

এভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আইসিইউতে ওই মহিলা চিকিৎসা চলতে থাকে। তবে ওইদিন বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক এসে স্বজনদের জানান, মহিলাকে তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করছেন। নমুনা পরীক্ষার জন্য সীতাকুণ্ডের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডিতে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ওই মহিলার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

জানা গেছে, নমুনা নিয়ে যাওয়ার পরপরই বিকেল পাঁচটার দিকে ন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালক আবু নাসের এসে ওই মহিলার স্বজনদের জানান, তারা নিশ্চিত মমতাজ জাহান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তাকে রাখা হলে অন্য চিকিৎসকরা আর আইসিইউতে আসতে চাইছেন না। তাই তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে।

এ সময় মমতাজ জাহানের স্বজনরা আকুতিমিনতি জানালেও হাসপাতাল পরিচালক আবু নাসের তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই মহিলাকে আইসিইউ থেকে বের করে সাধারণ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরপরই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। অসহায় স্বজনদের ছুটোছুটি, চিকিৎসকদের কাছে আকুতি— সবকিছু ছাপিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ৬০ বছর বয়সী মমতাজ জাহানের মৃত্যু ঘটে। এর পরেও চিকিৎসকরা তো দূরে, নার্স ও কর্মীরাও ওই মৃতদেহের আশেপাশেও যায়নি।

মমতাজ জাহানের ছেলে মো. নাঈম বলেন, ‘ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা দুই তিন দিন চিকিৎসা করে হঠাৎ সন্দেহ করতে থাকেন আমার মায়ের করোনা হয়েছে। সন্দেহের কারণে মাকে চিকিৎসা না দিয়ে আইসিইউ থেকে জোর করে নামিয়ে দেন হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. আবু নাসের।’

জানা গেছে, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭৭ হাজার টাকা বিল দাবি করে। পরে ৬৭ হাজার টাকা পরিশোধ করে মমতাজ জাহানের মৃতদেহটি সীতাকুণ্ডের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে লাশটি দাফন হয়।

লাশ দাফনের দিনই বিকেল তিনটায় সীতাকুণ্ডের বিশেষায়িত হাসপাতাল বিআইটিআইডি থেকে ফোন করে জানানো হয়, মমতাজ জাহানের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সেদিন ওই বৃদ্ধার ছেলেরা করোনা পরীক্ষার রিপোর্টটি দ্রুত দেওয়ার জন্য আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু একটি পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে তো ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই দ্রুত দেওয়া যায়নি।

তবে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত করোনা সন্দেহ করে চিকিৎসা না করাটা উচিত হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কিছু কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা বারবার বলছি এমনটা যেন না হয়। বিএমএও বলছে কাউকে যেন চিকিৎসা বঞ্চিত করা না হয়। তবুও কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমি এজন্য মনিটরিং কমিটি গঠন করেছি।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন

পিপিই-মাস্ক মানসম্মত কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে

জটিল হচ্ছে লড়াই, করোনার থাবায় চট্টগ্রামের ১৯ চিকিৎসক

নারীদের তুলনায় ৫ গুণ বেশি পুরুষ আক্রান্ত

২১ থেকে ৪০— চট্টগ্রামে তরুণরাই করোনার সহজ শিকার

ksrm