চট্টগ্রামের দুই পাসপোর্ট অফিসে ঘুষের টাকা ওঠে মাসে ৪ লাখ, দেশজুড়ে ১৫ কোটি

দালাল-ধরা আবেদন থেকেই ঘুষ আসে ১১ কোটি টাকা

2

প্রতি মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঘুষের টাকা ওঠে দেশের ৬৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে। এর অর্ধেকেরও বেশি আদায় করা হয় দালালের মাধ্যমে। ঘুষের এই টাকা পরে ভাগবাটোয়ারা করা হয় পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদে অবস্থিত বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা এবং পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে ঘুষের টাকা তোলা হয় এক লাখ করে। এছাড়াও রয়েছে পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা ভুল সংশোধন বাবদ অবৈধ লেনদেন।

সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলো থেকে এমন সব অভিযোগের নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুদকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে ঘুষ তোলা হয় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এর বাইরে পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা ভুল সংশোধন বাবদ অবৈধ লেনদেন হয় তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। পরে ঘুষের এই টাকা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও দেশজুড়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে প্রতি মাসে গড়ে দুই লাখ ২৬ হাজারের বেশি পাসপোর্টের আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমা পড়ে দালালের মাধ্যমে। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে পাসপোর্ট কর্মকর্তারা ঘুষ নেন এক হাজার টাকা করে। শুধু এই আবেদন খাত থেকেই প্রতি মাসে ঘুষ আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকাই চলে যায় রাজধানীতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে। অন্যদিকে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের প্রধানদের পকেটে যায় সাড়ে চার কোটি টাকা। সহকারী পরিচালকরা পান প্রায় আড়াই কোটি টাকা। বাকি টাকা বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের ভাগ করে দেওয়া হয়।

Yakub Group

দুদকের কাছে যাওয়া প্রতিবেদন অনুসারে, ঘুষ হিসেবে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদে অবস্থিত বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা এবং পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে তোলা হয় এক লাখ করে। অন্যদিকে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে তোলা হয় দেড় থেকে এক লাখ টাকা, যাত্রাবাড়ী থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, কুমিল্লা থেকে মাসভেদে এক থেকে চার লাখ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এক লাখ টাকা করে, সিলেট ও মৌলভীবাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা করে, মাদারীপুর ও বরিশাল পাসপোর্ট অফিস থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে, বগুড়া থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, হবিগঞ্জ থেকে ৫০ হাজার টাকা, নরসিংদী থেকে ২৫ হাজার টাকা, ফরিদপুর থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ তোলা হয়।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জ থেকে ১৫ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা থেকে ১৫ হাজার টাকা, নোয়াখালী থেকে এক লাখ টাকা, যশোর থেকে ৫০ হাজার টাকা, লক্ষ্মীপুর থেকে ১৫ হাজার টাকা, কুষ্টিয়া ও শরীয়তপুর থেকে ১০ হাজার টাকা করে, চাঁদপুর থেকে ১৫ হাজার টাকা, ঝিনাইদহ থেকে ১০ হাজার টাকা, বাগেরহাট থেকে ১০ হাজার টাকা এবং রাজশাহী ও মুন্সীগঞ্জ থেকে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষের টাকা আদায় করা হয়।

এদিকে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

2 মন্তব্য
  1. Ainul Asif বলেছেন

    ধন্যবাদ চচট্টগ্রাম প্রতিদিন এ ধরনের গুরুত্মপূর্ন নিউজ করার জন্য,
    তবে ২-৩ লক্ষ টাকার লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নয়,কারন যেখানে ৩০০০/- টাকা না দিলে কোন পাসপোর্ট ফর্ম জমা করা যায়না,দৈনিক কত ফর্ম জমা নেয় সে হিসেবে আসল বিষয়টি বেরিয়ে আসবে,
    ১মাস আগে মনসুরাবাদে গিয়ে জমা দিতে না পেরে ফিরে এসেছি।

  2. আবুল কালাম বলেছেন

    আমি ৩ মাস আগে দুইটা পাসপোর্ট জমা দিয়েছি পাঁচলাইশ এ দালালকে টাকা দিয়ে, কিন্তু এখনো আমার পাসপোর্ট ব্যাক এন্ড ভেরিফিকেশনে পেন্ডিং এ রয়ে গেছে, ওখানে নাকি আবার টাকা দিলে আমার পাসপোর্ট তাড়াতাড়ি পেয়ে যাব

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm