চট্টগ্রামের ঢোল নিয়ে বিশ্ব মাতিয়েছেন বিনয় বাঁশী

জন্মদিনের আয়োজনে ড. হরিশংকর জলদাস

0

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ড. হরিশংকর জলদাস বলেছেন, ‘বিনয় বাঁশী ছিলেন সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন ঢোলের জাদুকর। কিন্তু চাটগাঁইয়া সংস্কৃতিতে আজ আরেকজন বিনয় বাঁশী তৈরি হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে না আরেকজন শেফালী ঘোষ। চট্টগ্রামের লোকসংস্কৃতির জাগরণে রমেশ শীল, গফুর হালী, মলয় ঘোষ দস্তিদার, এমএন আখতারদের মতো কিংবদন্তী তুল্য শিল্পীদের সৃষ্টি সংরক্ষণ করতে হবে, নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে হবে।’

রমেশ-বিনয়-শেফালী চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে সোমবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢুলী বিনয় বাঁশীর ১০৯তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাস্কর ডি কে দাশ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ড. মনজুর উল আমীন চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন কনফিডেন্স সিমেন্টের চেয়ারম্যান লায়ন রুপম কিশোর বড়ুয়া । বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন লিমিটেডের এমডি পুলক কান্তি বড়ুয়া, সাংবাদিক ও লোকসংগীত গবেষক নাসির উদ্দিন হায়দার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি স্বপন কুমার বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে ডি কে মামুন নির্মিত রম্যলেখক সত্যব্রত বড়ুয়ার ভাস্কর্য উন্মোচন করেন অতিথিরা।

কনফিডেন্স সিমেন্টের চেয়ারম্যান লায়ন রুপম কিশোর বড়ুয়া বলেছেন, ‘বিনয় বাঁশী চট্টগ্রামের ঢোলকে বিশ^ পরিসরে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তার মতো শিল্পীর পরিবার দুরবস্থায় আছে, এটা দুঃখজনক।’ তিনি নদী ভাঙন থেকে বিনয় বাঁশীর বাড়ি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেন।

লোকসংগীত গবেষক নাসির হায়দার বলেন, চাটগাঁইয়া গানের জাগরণে আস্কর আলী পণ্ডিত ও কবিয়াল রমেশ শীলের অবদান অবিস্মরণীয়। আর এই গানের বিশ্বায়নের নায়ক হলেন মোহাম্মদ নাসির। সত্তরের দশকে অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী, মলয় ঘোষ দস্তিদার, মোহন লাল দাশ, গফুর হালী, এমএন আখতার, লক্ষীপদ আচার্য্য ও কল্যাণী ঘোষ প্রমুখ সংগীতজ্ঞ চাটগাঁইয়া গানে স্বর্ণযুগ আনেন। কালজয়ী জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈঞ্চবের কণ্ঠে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু গত একদশক ধরে চাটগাঁইয়া গানে বড় ধরনের শূন্যতা চলছে। অডিও ব্যবসায় ধ্বস নামায় নতুন গান আসছে না, নতুন শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। চট্টগ্রামের লোকগানকে বাঁচাতে বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, যেমনটি করেছে পিএইচপি ফ্যামিলি। পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচালক আনোয়ারুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে কিংবদন্তী সংগীজ্ঞ আবদুল গফুর হালীর গান সংরক্ষণে অবিস্মরণীয় উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। গফুর হালীর ৩০০ গানের স্বরলিপিসহ গীতিকাব্য প্রকাশিত হয়েছে যা চাটগাঁইয়া গানের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার আবুল বশর, মোহাম্মদ ইউনুছ, শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, পুঁথি গবেষক মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী ও বেলাল হোসেনকে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রমেশ-বিনয়-শেফালী চর্চা কেন্দ্রের সমন্বয়ক, সাংবাদিক তাজুল ইসলাম রাজু।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন