s alam cement
আক্রান্ত
৭৫৩৬৩
সুস্থ
৫৩৮৯৮
মৃত্যু
৮৮৫

চট্টগ্রামের গার্মেন্টসকর্মীরা লকডাউনে কাজে যেতে পদে পদে দুর্দশায়

প্রথম দিনেই অনেকে গেছেন ৭-৮ কিলোমিটার হেঁটে

1

লকডাউনে সবধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কাজে যোগ দিতে গিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছে চট্টগ্রামের প্রায় ২০০ পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। এসব শ্রমিকদের বড় একটি অংশের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি যাতায়াতের কোনো উদ্যোগ। ফলে অনেককে হেঁটে, অনেককে আবার অতিরিক্ত ভাড়ায় রিকশায় চড়ে কারখানায় যেতে হয়েছে। লকডাউনের বাকি দিনগুলোতেও যাতায়াতের দুর্দশা এভাবেই চলতে থাকবে— এটা ভেবে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে পোশাকশ্রমিকরা।

জানা যায়, বেপজা, সিইপিজেড, কেপিজেড, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর আওতায় রয়েছে প্রায় ৬০০ তৈরি পোশাক কারখানা। তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পোশাক শ্রমিকই চাকরিতে যোগদানের পর থেকে আসা-যাওয়া করছেন কারখানার নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায়। বাকি একটি অংশ প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করছেন ব্যক্তি উদ্যোগে— গণপরিবহনে। সরকারের কঠোর এই লকডাউনে সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ওই পোশাক শ্রমিকরা।

এর আগে বুধবার (৩০ জুন) কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রেখে পোশাক কারখানা খোলা রাখার প্রতিবাদে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়ক অবরোধ করেছে শত শত পোশাক শ্রমিক। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরের টাইগারপাস, দেওয়ানহান মোড়, চৌমুহনী মোড় ও আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, নগরীর পতেঙ্গা বিজয় নগর, উত্তর পতেঙ্গা নম্বর ব্রিজ, সিমেন্টক্রসিং মোড়, সল্টগোলা মোড়, বিশ্বরোড মোড়, আগ্রাবাদ, চৌমুহনি মোড়, দেওয়ানহাট মোড়, টাইগারপাস মোড়, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেইট, বহদ্দারহাট মোড়, নিউ মার্কেট মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিকদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের কেউ কেউ অতিরিক্তি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে চড়ে করে কর্মস্থলে যান।

চট্টগ্রামের গার্মেন্টসকর্মীরা লকডাউনে কাজে যেতে পদে পদে দুর্দশায় 1

Din Mohammed Convention Hall

জানা যায়, বেপজার আওতায় রয়েছে ১৪২টি পোশাক কারখানা। সেখানে কাজ করছেন প্রায় দেড় লাখ পোশাক শ্রমিক। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ইপিজেডের আওতায় রয়েছে ৫০টি পোশাক কারখানা। সেখানে প্রায় ৭২ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আওতায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ পোশাক কারখানা। এদের অধিকাংশ কারখানারগুলো রয়েছে নগরের ব্যারিস্টার কলেজ এলাকা, ফকিরহাট, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, বায়েজিদ ও অক্সিজেন এলাকায়।

সকাল ৭টার দিকে গণপরিবহনের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন নাদিয়া বেগমসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পোশাকশ্রমিক। তারা সবাই কাজ করেন সিইপিজেড শিল্প এলাকায়। লকডাউনের আগে সবাই ব্যক্তি উদ্যোগে গাড়িতে করে যাতায়াত করতেন অফিসে। জানতে চাইলে তারা বলেন, কারখানা খোলা, অথচ গণপরিবহন বন্ধ। কিভাবে অফিসে যাব? সবার বাসা অফিস থেকে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে করে আসতে-যেতে অনেকগুলো টাকা গাড়ির পেছনে চলে যাচ্ছে। মাস শেষে বেতন যা পাবো, মনে হচ্ছে তার সব গাড়িভাড়ার পেছনেই যাবে। খাব কী? বাসা ভাড়া দিব কিভাবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী ইপিজেডের (কেপিজেড) জেনারেল ম্যানেজার মো. এনামুল হক বলেন, ‘কর্ণফুলী ইপিজেডের আওতায় প্রায় ৭২ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানার শ্রমিকদের জন্য পূর্ব থেকে আসা-যাওয়ার জন্য নিজস্ব বা ভাড়া করা গাড়ি ব্যবস্থা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব শ্রমিক কারখানার আশপাশে থাকেন, তারা হেঁটে অফিসে আসছেন। তবে যাদের যাতায়াতের পথ বেশি দূরে, ওইসব শ্রমিকদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) জেনারেল ম্যানেজার মসিউদ্দিন বিন মেসবাহ বলেন, ‘বেপজার আওতায় অধিকাংশ কারখানার শ্রমিকরা আগে থেকেই ফ্যাক্টরির গাড়িতে করে আসা-যাওয়া করছেন। কঠোর লকডাউনেও একই নিয়মে চলছে। অনেকেই ৫ কিলোমিটারর বেশি দূরত্বের পথে প্রতিদিন যাতায়াত করেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। ৫ কিলোমিটার বা কম বেশি পথ দূরত্বে থাকা শ্রমিকদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে সকল কারখানার মালিকদের বলা হয়েছে।’

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিজিএমইএর আওতায় প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা রয়েছে। সরকারের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন পেয়ে আমরা সকল কারখানা মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত সুবিধা দিতে বলেছি। অনেকে আগে থেকেই কারখানার পরিবহনে শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

‘তবে গাড়ির সংকট রয়েছে’— একথা স্বীকার করে এই বিজিএমইএ নেতা বলেন, ‘অনেক কারখানা এখনও কিছু শ্রমিকের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। আজ (বৃহস্পতিবার) ও কালকের (শুক্রবার) মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অনেক কারখানার কর্তৃপক্ষ।’

এমএফও/সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

1 মন্তব্য
  1. Mohammad Ariful islam বলেছেন

    সারাবছর গার্মেন্ট শ্রমিকরা গার্মেন্টস মালিকদের শ্রম দেয়।অথচ গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিপদের সময় কিছু করে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm