৮০ বছরের বৃদ্ধা সখিনা বেগম, ছেলে টিপু সুলতানের হাত ধরে এসেছেন ভোট দিতে। জীবনের শেষভাগে এসে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুশি এই বৃদ্ধা। সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মফিজ মিয়ার অনুভূতিও প্রায় একই রকম। সখিনা বেগম কিংবা মফিজ মিয়ার মতো বয়স্কদের পাশাপাশি এবার চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাড়তি নজর কেড়েছে তরুণ ভোটারের উপস্থিতি। শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান এই আসনের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১২১টি কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট গ্রহণ। কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমলেও দুপুর থেকে আবারও ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হয় চট্টগ্রাম-৯ আসন। নগরের কোতোয়ালী, বাকলিয়া, চকবাজার ও ডবলমুরিংয়ের আংশিক এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের অবস্থান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক ও বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মধ্যে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানান রকম সহিংসতার শঙ্কা ছিল নির্বাচন নিয়ে। তবে সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৯ আসনে সহিংসতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে ভোট গ্রহণ। দীর্ঘদিন পর এমন স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা।
কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে আইনশৃঙ্খলাসহ ভোটের সার্বিক পরিস্থিতির নিয়ে সন্তোষ্টির কথা জানান এই আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান।
কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, ভোটের পরিবেশ চমৎকার। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। তিনি জানান, একটি পক্ষের ভোট নিয়ে সহিংসতার পরিকল্পনা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় তা এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ জন পুরুষ ও ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন নারী ভোটার। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন নয়জন।
জেডএন/ডিজে




