চট্টগ্রামের কেডিএসের হাতেই আবার গেল আল-আরাফাহ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ, নেই শুধু লাবু
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে পরিচালিত আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে আবারও ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল রেখে পুরোনো উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে যুক্ত করে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। নতুন যুক্ত হওয়া সদস্যদের অধিকাংশই চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, ফলে ব্যাংকটির পরিচালনায় আবারও পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ঘটল।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আগের উদ্যোক্তাদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক উদ্যোক্তাকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় তাদেরই পর্ষদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
কেডিএস পরিবারের প্রাধান্য
নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের কর্ণধার খলিলুর রহমান, তাঁর বড় ছেলে সেলিম রহমান, ছোট ভাই আহামেদুল হক এবং আহামেদুল হকের সম্বন্ধী বদিউর রহমান। বদিউর রহমান ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায়, ২০২৩ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।
এ ছাড়া কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি হিসেবে মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে শরিফ উদ্দিন তসলিমকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পর্ষদে পুনরায় জায়গা পেয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক মীর গ্রুপের কর্ণধার আবদুস সালাম। তিনি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ছেলের শ্বশুর।
এ ছাড়া দুবাইভিত্তিক আল হারামাইন পারফিউমসের মালিক ও এনআরবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসিরের ছেলে ইমাদুর রহমানকে আবার পরিচালক করা হয়েছে।
পুরোনো পরিচালকদের মধ্যে আরও রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, লিয়াকত আলী চৌধুরী ও এনায়েত উল্লাহ।
এস আলম-কেডিএসের নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বতন্ত্র পর্ষদ
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গ্রুপটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ লাবু দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ঢাকাভিত্তিক দৈনিক কালবেলা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে লাবুর নেতৃত্বে কেডিএস গ্রুপের খলিলুর রহমান ও তাঁর ছেলে সেলিম রহমান ব্যাংকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। সাইফুল আলম মাসুদ ও খলিলুর রহমানের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একই গ্রামে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেছিল। প্রায় দুই বছর পর সেই পর্ষদের পাশাপাশি আবারও পুরোনো উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সিপি




