চট্টগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা ১৫ বছর ধরে এক উপজেলায়, করেন অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরিও

জায়গা দখলের অভিযোগে আছে ফৌজদারি মামলাও

পেশায় তিনি সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু নিজ কর্মস্থলের কাজ ফেলে মোটা বেতনে তিনি কাজ করে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন এক প্রতিবেশি। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা লঙ্ঘনের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে ১৫ বছর ধরেই তিনি রয়েছেন এক উপজেলায়।

সরকারি এই কর্মকর্তার নাম রুপায়ন চৌধুরী ওরফে বুড্ডু। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

জানা গেছে, রুপায়ন চৌধুরী ১৫ বছর ধরে চন্দনাইশ কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। কিন্তু তিনি সরকারি অফিস ফেলে কাজ করেন পটিয়ার এ টি আর এগ্রো ফর্মে। প্রতিমাসে নেন মোটা অঙ্কের বেতন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পটিয়ার এ টি আর এগ্রো ফার্মের অফিসে বসে কাজ করছেন রুপায়ন চৌধুরী। অথচ ওই সময় তার সরকারি অফিসে থাকার কথা।

অথচ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর ১৭ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কিংবা সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা কাজ করতে পারবেন না।

এছাড়া রুপায়ন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলাও। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রুপায়নসহ চারজনকে আসামি করে মামলাটি করেন তারই প্রতিবেশি প্রণব চৌধুরী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে মামলার বাদি প্রণব চৌধুরীর জায়গায় পাকা বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ চলছিল। হঠাৎ ১০ থেকে ১২ জনের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ৭৬ ফুট প্রস্থের দেওয়াল ভাংচুর করে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাদির ভাই ও বাবাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারে তারা। পাড়ার সবাই প্রতিবাদ জানালে রুপায়ন চৌধুরী বাদির কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ঘর ছাড়া করার হুমকি দেন। এ সময় বাদির মা-ভাবীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, রুপায়ন চৌধুরী একজন মাদককারবারি ও মাদকাসক্ত লোক। তার নেতৃত্বে এলাকায় কিশোর গ্যাং রয়েছে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আমিন বলেন, ‘এই মামলাটির তদন্তে রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ হলে চার্জশিট আদালতে পাঠানো হবে।’

আজিম উদ্দিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘রুপায়নের ইতিহাস বলে শেষ করা যাবে না। এমন কোনো অনৈতিক কাজ নেই যে তিনি করে বেড়ান না। এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে তিনি নিয়মিত মাসোহারাও আদায় করেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ টি আর এগ্রো ফর্মের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি চাকরি ফাঁকি দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চাকরি করছেন রুপায়ন চৌধুরী। একদিকে সরকারি চাকরি, অন্যদিকে তার ভাইয়ের রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। তার নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় চাকরিচ্যুতও করেছেন অনেককে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুপায়ন চৌধুরী বলেন, ‘আমি যা কিছুই করি না কেন, আমার উপরস্থ কর্মকর্তারা তা অবগত আছেন। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলুন। উনারাই আমার বিষয়ে বলবেন। আমার যা ইচ্ছে আমি তাই করবো। তাতে আপনার কি?’

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে শত্রুতা করেই এমন মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

রুপায়ন চৌধুরীর বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাণী সরকার বলেন, ‘রুপায়ন চৌধুরীর অফিস ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির কথা শুনেছি। কিন্তু সঠিক প্রমাণের অভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। আর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকার বিষয়টিও শুনেছি। এটি তদন্তনাধীন রয়েছে। যদি আইনের দৃষ্টিতে সে অপরাধী হয়। তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে জেলহাজতে পাঠানো হবে। আর এরপরই আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!