চট্টগ্রামের এসএওসিএলে ৪৭৩ কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে কী ব্যবস্থা, জানাতে হাইকোর্টের রুল

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীন চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) ৪৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা অনিয়মের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে কোম্পানির অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

বিপিসি ও বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলকে (সিএজি) আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার (৬ নভেম্বর) রুলসহ এ আদেশ দেন। অনিয়ম সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসএওসিএলের পরিচালক মঈনুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে বলেছেন আদালত।

এর আগে মোহাম্মদ শাহেদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। পরে তদন্তে ৫৭ কোটি টাকার অনিয়ম বের হয়ে আসে।

জ্বালানি খাতের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডসহ (এসএওসিএল) সাতটি প্রতিষ্ঠান বিপিসির অধীন। তবে এসএওসিএল আধাসরকারি, বাকি অর্ধেক ব্যক্তিমালিকানার। এসএওসিএল ইঞ্জিন তেল, যানবাহনের তেল, ডিজেল, বিটুমিন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও ফার্নেস তেল বিপণন ও বিতরণ এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে জেট ফুয়েল সরবরাহ করে।

গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত হওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপিসি সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মের কারণে ৪৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সিএজি ২০১২-১৩ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত এসএওসিএলের নথি পর্যালোচনার তথ্যের ভিত্তিতে একথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে কোম্পানির পাঁচ পরিচালকের একজন ও ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থ আত্মসাৎ, ওভারটাইম, অনুপস্থিত তহবিল, মামলা-মোকদ্দমা ফি প্রদানে অনিয়ম ও আয়কর অধ্যাদেশ এবং ভ্যাট বিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!