কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্থানীয় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নাজিম উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফের জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
এলাকায় বালুদস্যুু হিসেবে পরিচিত নাজিম উদ্দীন। তিনি উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং কোরবানিয়াঘোনা গ্রামের মৃত খুইল্যা মিয়ার ছেলে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী মামলার জামিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার এক নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীন, দুই নম্বর আসামি তার ভাই সাহাব উদ্দিন, তিন নম্বর আসামি সহযোগী নুরুল আলম উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে আসেন। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আবার জামিনের জন্য আবেদন করেন।
আদালত জামিন শুনানি শেষে মামলার এক নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই আদেশে আদালত মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল না হওয়া পর্যন্ত অপর দুই আসামিকে জামিন দেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, উপজেলার তিনজন সিনিয়র সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নাজিম উদ্দিন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে মঙ্গলবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থায়ী জামিনে এসেছিলেন। এ সময় মামলাটি শুনানি হয় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। এসময় আদালত এক নম্বর আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল না করা পর্যন্ত অপর দুই আসামিকে জামিন দেন।
জানা গেছে, হামলার শিকার তিন সাংবাদিকের মধ্যে এম জিয়াবুল হক দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ছোটন কান্তি নাথ দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক আজাদী এবং একেএম ইকবাল ফারুক দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় চকরিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাজিম উদ্দিন হারবাং ছড়াখাল থেকে এবং আশপাশের ফসলি জমি কেটে বালুদস্যু নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরকারি আশ্রয়নের পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হয়।
এ খবর পেয়ে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনজন সাংবাদিক ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যায়। এসময় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি ভিডিও চিত্র ধারনকালে নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সাংবাদিক এম জিয়াবুল হকের ডান হাত ভেঙে যায়। বেধড়ক মারধরে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হন সাংবাদিক ইকবাল ফারুক ও ছোটন কান্তি নাথ।
এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক একেএম ইকবাল ফারুক বাদি হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করেন। মামলায় নাজিম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
ডিজে




