গোপনে বউসহ ছোট সাজ্জাদকে চট্টগ্রাম থেকে সরানো হলো, নেটওয়ার্ক ভাঙাই টার্গেট

এক দশক ধরে চট্টগ্রামের অপরাধচক্রের বড় নাম সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতের অন্ধকারে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে, আর তার স্ত্রী তামান্না শারমীনকে পাঠানো হয় ঢাকা বিশেষ মহিলা কারাগারে। নিরাপত্তার কারণে তথ্য গোপন রাখা হলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই স্থানান্তর ছিল উচ্চ নিরাপত্তার অভিযানের মতো গোপন ও দ্রুত।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, দুজনকে পৃথক কারাগারে নেওয়া হয়েছে। জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, প্রায় ১০ দিন আগেই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। তথ্যের অসঙ্গতি থেকেই স্পষ্ট—এই পুরো প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গোপনীয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাজ্জাদ কারাগারে থাকা অবস্থাতেও এলাকায় হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক ডাবল মার্ডারেও তার নাম ওঠে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগারে বসে নির্দেশ দেওয়া রুখতে দূরবর্তী কারাগারে স্থানান্তরই কার্যকর পদ্ধতি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সাজ্জাদের বাহিনীর কাছে রয়েছে একে-৪৭, ফোল্ডিং রাইফেল, বিদেশি পিস্তলসহ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় লুকানো এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।

গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সহযোগী সরোয়ার বাবলা খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডেও সাজ্জাদের নাম উঠে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা–রাজশাহী–চট্টগ্রামের দূরত্বই মূল সুবিধা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং নিজস্ব এলাকায় ফেরার সুযোগ বন্ধ করা—এই কৌশল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভাঙতে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালারপুল, অনন্যা আবাসিক, কুয়াইশ, চান্দগাঁও, হাজীরপুল, পাঁচলাইশ—চট্টগ্রামের বিশাল এলাকাজুড়ে ছোট সাজ্জাদের প্রভাব বিস্তৃত ছিল। হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫–১৬টি ফৌজদারি মামলার আসামি তিনি।

তার সহযোগীদের অনেকে এখনও ধরা না পড়ায় নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভাঙেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানান্তর নেটওয়ার্কের কাঠামো দুর্বল করবে এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় মোড় সৃষ্টি করবে।

জেজে/সিপি

ksrm