গুরুপূর্ণিমায় ‘গুরু প্রণাম’, সম্মান জানানো হলো তবলা গুরু সুদীপ সেনগুপ্তকে
সাধনা আর শ্রদ্ধায় ভরল থিয়েটার ইনস্টিটিউট
চট্টগ্রামে গুরুপূর্ণিমা উপলক্ষে বরেণ্য তবলাশিল্পী ও গুরু সুদীপ সেনগুপ্তকে সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গুরু প্রণাম’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে গুরু পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সুর, সাধনা ও গুরু-শিষ্য সম্পর্কের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন ও গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এ সময় অতিথি, শিল্পী ও দর্শকদের অংশগ্রহণে মিলনায়তনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন তবলা গুরু সুদীপ সেনগুপ্ত। তিনি সকল গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জীবনে গুরুর স্থান সর্বোচ্চ। গুরুর কাছ থেকেই মানুষ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার শিক্ষা লাভ করে। ভালো-মন্দ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখে তাঁর সান্নিধ্যে। জীবনের অন্ধকার পথকে যিনি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেন, তিনিই প্রকৃত গুরু। গুরুপূর্ণিমার এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি বিশ্বাস করেন, যেসব শিক্ষার্থী গুরুর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সত্যকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে, তাদের সাফল্য অনিবার্য। গুরুজনদের আশীর্বাদে তারা যেন দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গুরু কেবল একজন শিক্ষক নন, একজন মানুষের জীবন গঠনের স্থপতি। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও প্রেরণাই একজন শিষ্যকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়। তাঁদের ভাষ্য, সুদীপ সেনগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে তবলা সাধনার মাধ্যমে যেমন একজন গুণী শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি নিবেদিতপ্রাণ গুরু হিসেবেও শিষ্য গড়ে তুলছেন। তাঁর এই সাধনা ও প্রচেষ্টা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য মূল্যবান সম্পদ। বক্তারা বলেন, ‘গুরু প্রণাম’ কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উদ্যোগ, যা আগামী প্রজন্মকে সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও গুরুভক্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।
এরপর ‘রেওয়াজ’-এর শিষ্যরা ‘গুরুবন্দনা’ পরিবেশন করেন। পরে মোহনবীণা বাদন পরিবেশন করেন শিল্পী দোলন কানুনগো।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রূপক তবলা ইনস্টিটিউশনের পরিবেশনায় বৃন্দ তবলা লহরা। আশীষ চৌধুরীর পরিচালনায় এ পরিবেশনায় অংশ নেন প্রথম কুয়ার জৈন, রিপন দাশ, সৌমেন দাশ ও শেখ আরমানুল ইসলাম আদর। তাঁদের পরিবেশনা দর্শকদের করতালিতে বারবার মুখরিত করে।
এরপর কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করেন রিটন কুমার ধর। বেহালা বাদন পরিবেশন করেন অপরাজিতা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পরিবেশনায় তবলা সংগতে ছিলেন রোমেন বিশ্বাস (রাজু), জুয়েল চৌধুরী, সুশান্ত কর চৌধুরী, সানি দে, দেবাশীষ দাশ ও তিষাণ ঘোষ। হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেন সৈকত দত্ত ও অভিষেক নন্দী। তানপুরায় ছিলেন নয়ন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাচিকশিল্পী প্রবীর পাল। আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন আহ্বায়ক বুলান দত্ত এবং সদস্য সচিব সানি দে।
অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।




