s alam cement
আক্রান্ত
৫১৩৯০
সুস্থ
৩৭২৭৭
মৃত্যু
৫৬৮

‘গায়ের জোরে’ রাউজান পৌর নির্বাচনের মনোনয়নে গেল শুধু জমিরের নাম

মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন নেতাকে সভাতেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি

0

দলের ঘোষণাপত্র লঙ্ঘন করে চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে রাউজান পৌরসভা আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হওয়া বর্তমান মেয়র দেবাশীষ পালিতসহ আরও দুজন আগ্রহী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে একক প্রার্থী ঘোষণাকে স্পষ্টত দলের ঘোষণাপত্রের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি আগ্রহী ওই তিন প্রার্থীকে বর্ধিত সভায়ও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজকে মেয়র পদে একক প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শাহাজাহান।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য পৌরসভা আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে ন্যূনতম তিন জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম উপজেলা ও জেলার মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে বলে দলীয় ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

এক্ষেত্রে রাউজানের পৌর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বর্তমান মেয়র দেবাশীষ পালিত, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আ স ম ইয়াছিন মাহমুদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা পৌরসভা আওয়ামী লীগ বরাবরে চিঠি দিলেও সেটি আমলে নেয়নি তারা। এমনকি বর্ধিত সভায় প্রবেশের চেষ্টা করেও সফল হননি সেই তিন নেতা।

দেবাশীষ পালিত চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘রাউজান পৌরসভা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্দেশকে উপেক্ষা করে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমরা বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। আমি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো। যদি কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া না হয় তাহলে যাকেই মনোনয়ন দেবে তাকে নির্বাচিত করতে কাজ করবো।’

ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বর্ধিত সভা করা হলো। আমরা মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েও সভায় ঢুকতে পারিনি। পরে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। এছাড়া ন্যূনতম তিনজনের নাম পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের। তারপরও একক নাম পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আমি জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে অভিযোগ জানিয়েছি।’

Din Mohammed Convention Hall

মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে— যাতে নির্বাচন না করি। কিন্তু আমি মনোনয়ন চেয়ে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। এর অনুলিপি জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেও দিয়েছি। এর পরেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি আমি জেলার নেতাদের জানিয়েছি। উনারা কেন্দ্রের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

কারা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে রানা বলেন, ‘এটি আমি এখন বলতে চাচ্ছি না। ব্যাপারটা বাড়াতে চাই না। প্রয়োজন হলে পরে বলবো।’

চারজন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার পরও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে একক নাম পাঠানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বলেন, ‘আমরা ওয়ার্ড ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সেখানে একজনের নামই প্রস্তাব এসেছে। তার নাম আমরা পাঠিয়েছি। হাউজে আর কারও নাম না এলে তো কিছু করার নেই।’

যদিও প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুতে প্রস্তাব সমর্থনের কোনো কথা আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ নেই। বরং মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে ন্যূনতম তিনজনের তালিকা করে পাঠাতে বলা হয়েছে। তাহলে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার পরও ‘প্রস্তাব সমর্থনের’ অজুহাত দেখিয়ে একক নাম পাঠানোর মাধ্যমে কেন্দ্রের নির্দেশকে উপেক্ষা করা হয় কিনা— চট্টগ্রাম প্রতিদিনের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান রাউজান পৌরসভা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান আতা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আসলে পৌরসভা আওয়ামী লীগ যে তালিকা উপজেলা আওয়ামী লীগকে দেবে, সেটাই আমরা ফরোয়ার্ড করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেবো। এখানে ফরোয়ার্ড ছাড়া আসলে আমাদের আর কিছু করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।’

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে আমরা এই বিষয়ে কেন্দ্রকে জানাবো।’

প্রসঙ্গত আগের বারও রাউজানের পৌর মেয়র পদে শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবীকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছিল রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগ। যদিও পরে কেন্দ্র থেকে দেবাশীষ পালিতকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও স্থানীয় সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরীর বিরাগভাজন হয়ে পাঁচ বছরে একদিনও নির্বিঘ্নে পৌরসভা কার্যালয়ে বসতে পারেননি দেবাশীষ পালিত।

এআরটি/সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm