গাছ ফেলে ‎আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের মহাসড়ক অবরোধ, ৪ ঘণ্টা পর সচল

‎ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায়ের পর তার সমর্থকরা বিক্ষোভ করেছে। বড় গাছের টুকরো ফেলে অচল করে দেওয়া হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এতে সড়কজুড়ে তীব্র যানজটের ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা। পরে চার ঘণ্টা পর অবরোধকারীরা সরে গেছে গাছের গুঁড়ি সরিয়ে নেয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বারৈয়ার ঢালা ইউনিয়ন এলাকায় মহাসড়কের উভয়দিকে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে দেয়। এছাড়াও উপজেলার সিটি গেট থেকে বড় দারগাহাট পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় মহাসড়কের ওপরে আসলাম চৌধুরী সমর্থকরা রায় পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন।

নেতাকর্মীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান করার ঘোষণা দিলেও বিকেল ৫টার পরে নেতাকর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও আন্দোলনের নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা।

‎বিকেল ৫টার পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় মহাসড়কে বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা গাছ ও গাছের টুকরো সরে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। একই সময়ে ঢাকামুখি লেনে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক উভয়দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

‎তবে আসলাম চৌধুরী নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়া ও শান্ত হওয়ার জন্য আহবান জানান।
‎উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ‎মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্দেশেই আমরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। কিন্তু দাবি আদায় না হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ ও কঠোর আন্দোলন শুরু করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। আমাদের দাবি একটাই। রায় পুনর্বহাল করে আসলাম চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করাতে হবে।

‎এদিকে মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়া এক প্রবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় বলেন, তিন মাস ছুটি শেষে আবার প্রবাস জীবনের উদ্দেশ্যে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে প্রার্থীর সমর্থিত নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে যে, যানজট সৃষ্টি করছে তাতে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আমার ফ্লাইট সন্ধ্যা ৬টায়। জানি না ঠিক সময়ে এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে পারবো কিনা।

‎বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আদিল মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন অংশে মহাসড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন গাছ কেটে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের উপস্থিতি দেখে সড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়। এ ব্যাপারে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডিজে

ksrm