গরিবের চালে ১৭ মেট্রিক টনের ‘গণ্ডগোল’, এমপির দাবি ‘চুরি’, চেয়ারম্যানের অস্বীকার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভিডিএফ’র চাল বিতরণে ‘অনিয়ম’ হাতেনাতে ধরেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ৫৬ মেট্রিক টন চাল থেকে ১৭ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়। পরে সেই চাল এনে বিতরণ করা হয় স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দুস্থদের মধ্যে।

গরিবের চালে ১৭ মেট্রিক টনের ‘গণ্ডগোল’, এমপির দাবি ‘চুরি’, চেয়ারম্যানের অস্বীকার 1

তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ৩৫ মেট্রিক টনের বেশি ধারণক্ষমতা নেই। তাই চালগুলো সব একসঙ্গে আনা হয়নি।

জানা গেছে, বুধবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের দুস্থদের মধ্যে ভিজিএফের এসব চাল বিতরণ শুরু হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে গোডাউনে গিয়ে চালের হিসাব চান স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।

ওই সময় খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দারসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য এবং গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

চাল তল্লাশি করে দেখা যায়, ৫৬ মেট্রিক টনের মধ্যে ১৭ মেট্রিক টন কম। গত ১০ জুন বাঁশখালীর পুকুরিয়া খাদ্য গুদাম থেকে চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার উত্তোলন করেন। এ সময় এমপি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিষয়টি আইনগতভাবে সুরাহা করা হবে। বাদি আমি, বিবাদি খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ, ফয়সালা হবে আদালতে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংসদ মুজিব চলে যাওয়ার পর সকাল ১১টায় ১৭ মেট্রিক টন চাল গোডাউনে আনা হয়।

বাঁশখালী উপজেলা সদর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র উপকূলবর্তী ইউনিয়ন খানখানাবাদ। এখানকার অধিকাংশ মানুষের পেশা মৎস্যজীবী। জেলেদের অনেকে ওজনে কম দেওয়া ও অনেককে চাল না দেওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। সাগরে এখন ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। জেলেদের কর্মহীন সময়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে থাকার জন্য সরকার খানখানবাদ ইউনিয়নের ১ হাজার জেলেদের জন্য মাথাপিছু ৫৬ কেজি করে বরাদ্দ করেছে।

বাঁশখালী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিপু চন্দ্র দাশ বলেন, ‘খানখানাবাদের চেয়ারম্যান ৫৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। শুনেছি উনার গোডাউনে নাকি ১৭ মেট্রিক টন কম পড়েছে। এমপি স্যারও এখানে তদন্তে এসেছিলেন। বাকি চাল তিনি কী করেছেন, আমি জানি না।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ কেউ দেয়নি। তবে ঘটনাটি শুনেছি, তদন্ত করা হবে।’

সাংসদ মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘খানখানাবাদের গোডাউনে চাল কম পেয়ে আবার উপজেলা খাদ্য গুদামের গোডাউনে গিয়ে খবর নিয়েছি। এরপর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে চালগুলো উদ্ধার হয়েছে। থানার পুলিশ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি চালগুলো বিতরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে ৩৫ মেট্রিক টনের অধিক চাল ধারণের ক্ষমতা নেই। তাই সবগুলো একসঙ্গে আনা হয়নি। বাকি চালগুলো আজ এনে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়েছে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!