আক্রান্ত
২৯৪৩
সুস্থ
২২৪
মৃত্যু
৭৫

গরমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তোড়জোড়

Picture-1427968583

 

গ্রীষ্ম না আসতেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় আগামী মাস নাগাদ লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। আর এ আশঙ্কাকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তোড়জোড় শুরু করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

পিডিবির ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা এবং বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন একটু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত স্বাধারনত গরম বেশি থাকায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেশি থাকে। তবে এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে আসন্ন গরমে সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিদ্যুতের লোড ম্যানেজমেন্ট ও পর্যাপ্ত ট্রান্সফরমার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি সরকারি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ওভারহোলিং করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। এ ছাড়া শীত মৌসুমে চাহিদা কম থাকায় এতোদিন রেন্টাল-কুইক রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) থেকে কম বিদ্যুৎ নেওয়া হতো। এখন সর্বোচ্চ উৎপাদনের মাধ্যমে বেশি বিদ্যুৎ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে এবং মার্কেট বা দোকানপাটে অধিক আলোকসজ্জায় বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাভেদে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপদনের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য পেট্রোবাংলাকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি গরমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।’

তবে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রম ধীর গতিতে চলার কারণে প্রতি বছরই গরমের সময় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ে সরকারের গৃহীত বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো উৎপাদনে আসতে ব্যর্থ হওয়ায় গরমের সময় এবারও লোডশেডিং বাড়বে, চরম অবনতি হবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির।

তাদের মতে, গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে যেমন সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে, তেমনি উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। তবে সে অনুপাতে বাড়েনি উৎপাদন দক্ষতা। যেখানে ২০০৮ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৫ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। সে বছর সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো। আর ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬১৮ মেগাওয়াট, ওই সময় সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৬ হাজার ৯৫৭ মেগাওয়াট। তবে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট বিদ্যু উৎপাদন হয়েছিল। আর চলতি বছর সর্বোচ্চ সাত হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গত ২৯ মার্চ। অথচ আসন্ন গরমে বিদ্যুতের চাহিদা থাকবে আট থেকে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এরকম থাকলে দুর্বিসহ গরম আর অসহনীয় লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা ।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

আরও পড়ুন
ksrm