খ্রিস্টানদের অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় পাঠানোর নাম করে ৫ কোটি টাকা মেরে দেন এক প্রতারক

৬০ জনকে চট্টগ্রামে ডেকে এনে মোবাইলই বন্ধ করে দেন

0

নিজেকে তিনি পরিচয় দিতেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রতারণার জন্য বিভিন্ন কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলেন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বসবাসকারী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে। তাদের কাছে টোপ ফেলতেন এই বলে— অস্ট্রেলিয়ায় খ্রিস্টানদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রামের মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বন্দরে চাকরি পাওয়া একেবারেই সহজ। তার এসব টোপ গিলতেন অনেকেই। এভাবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী অন্তত ৬০ জনের কাছ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা করে নেন ওই প্রতারক চট্টগ্রামের মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং দেওয়ার নাম করে।

অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় পাঠানোর কথা বলে মেরিন ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে বেকার যুবকদের ফাঁদে ফেলে এভাবেই প্রতারণা করে আসছিলেন মির্জা মুকুল (৪৫)। ওমানফেরত মুকুল গত আড়াই বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

খ্রিস্টানদের অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় পাঠানোর নাম করে ৫ কোটি টাকা মেরে দেন এক প্রতারক 1

প্রতারক মুকুল তার সম্ভাব্য শিকারদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার জন্য চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির ট্রেনিংয়ের ছবি নকল করে ভুয়া আইডি সরবরাহ করতেন। মুকুল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ওই ৬০ জন ভুক্তভোগীকে জানিয়েছিলেন, বিদেশি ডেলিগেট আসবে ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর। প্রথমে চট্টগ্রাম, পরে ডেলিগেটের সঙ্গে কক্সবাজারে দেখা করানোর আশ্বাসও দেন ভুক্তভোগীদের। গত বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে ভুক্তভোগীদের তিনি হঠাৎ জানান, ডেলিগেটরা চট্টগ্রাম পৌঁছে গেছেন। সবাইকে চট্টগ্রাম চলে আসার জন্যও বলেন তিনি। কিন্তু চট্টগ্রামে এসে ওই ভুক্তভোগীরা মুকুলকে মোবাইল ফোনে আর পাননি। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সিআইডি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একটি টিম ভাটারা থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মির্জা মুকুল নামের এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

এসময় মুকুলের কাছ থেকে ২৬টি পাসপোর্ট, তিনটি স্বয়ংক্রিয় সিলমোহর, মেরিন একাডেমির ট্রেনিং পাসের কার্ড ৩৫টি, মেরিন একাডেমির ট্রেনিংয়ের ভুয়া যোগদানপত্র, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর লেখা ও ছবি সংবলিত পাসপোর্টের আবেদন ফরম ২৫টি, মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামের বিভিন্ন আলোকচিত্র ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘মুকুল ৯ বছর ওমানের একটি পোর্টে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওমান থেকে ফিরে দুই থেকে আড়াই বছর ধরে মুকুল প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘কানাডায় পাঠানোর কথা বলে মুকুল ১২ জনের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। প্রতারক মুকুল ভুক্তভোগীদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার জন্য মেরিন একাডেমির ট্রেনিংয়ের জন্য ছবি নকল করে আইডি সরবরাহ করতেন।’

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম বলেন, ‘আসামি ও পলাতক অন্যান্য আসামি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে ট্রেনিং করিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পোর্টে চাকরির নকল নিয়োগপত্র সরবরাহ করতেন। প্রতারণার মাধ্যমে সহজ-সরল লোকদের ঠকিয়ে প্রায় ৮২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ চক্রের সঙ্গে আরও দুই থেকে তিন জন যুক্ত থাকতে পারে।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm