চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন দক্ষিণ খুলশীর গরীবউল্ল্যাহ হাউজিং সোসাইটিতে জমি ব্যবসার দোহাই দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কথিত সাংবাদিক আহমেদ কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদাবাজির পাশাপাশি মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে নগরীর খুলশী থানা এলাকা থেকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী মোহাম্মদ সিরাজ (৪৫) কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা উত্তর চরহাজারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে গরীবউল্ল্যাহ হাউজিং সোসাইটির কেডিএস বিল্ডিংয়ে বসবাস করছেন। মামলায় আরও চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সৈয়দ মোহাম্মদ বাচ্চু (৪৩), সৈয়দ মোহাম্মদ মাইনুল (৪০) ও মোহাম্মদ আবদুল মন্নান (৩৯)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেডিএস বিল্ডিংয়ের পার্কিং এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তরা বাদীকে ঘেরাও করে। এ সময় আহমেদ কবীর নিজেকে জমি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় এবং সাত দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সিরাজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলার ধারাগুলো হলো ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪১, ৩৪২, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৮৫ ও ৫০৬/৩৪। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক এসআই মাসুদ কামাল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আহমেদ কবীর এর আগে একাধিক বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাতে নিজেকে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। বিভিন্ন সময় তিনি নিজেকে বিভিন্ন অনলাইন ও বেসরকারি গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঘোরাফেরা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া গেছে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে।
আরেকটি ঘটনায়, ২০২৪ সালে ঢাকার মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন-কে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নম্বর-৫৯৭/২৪ দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং সিআইডি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।




