খুলশীতে মাইটিভির সাংবাদিক সেজে ভয়ংকর ডাকাতি, তাণ্ডব শেষে ৪৫ লাখের গাড়িসহ উধাও

সাংবাদিক পরিচয়ে ১৩ দিন আগেও ডাকাতি

চট্টগ্রামের খুলশীতে একদল দুর্বৃত্ত এমন অভিনব উপায়ে ডাকাতি করেছে, যা শুনে হতবাক পুলিশও। টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা ঢুকেছিল এক বাসায়—হাতে ছিল নকল মাইক্রোফোন, মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ভেতরে ঢুকেই শুরু হয় তাণ্ডব। বৃদ্ধা ও গৃহকর্মীদের জিম্মি করে আড়াই ঘণ্টা ধরে বাসা তছনছ করে তারা। আর শেষে নিয়ে যায় সদ্য কেনা ৪৫ লাখ টাকার টয়োটা করোলা গাড়িসহ মালামাল।

খুলশীতে মাইটিভির সাংবাদিক সেজে ভয়ংকর ডাকাতি, তাণ্ডব শেষে ৪৫ লাখের গাড়িসহ উধাও 1

সাংবাদিক সেজে ডাকাতদলের তাণ্ডব

এর আগে গত ১০ অক্টোবর দুপুরে, ঠিক জুমার নামাজের সময় চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডে বিটিআই বিল্ডিংয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশ করা একদল দুর্বৃত্ত বৃদ্ধা ও গৃহকর্মীদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং নতুন কেনা একটি টয়োটা করোলা গাড়ি লুট করে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, প্রায় ১২-১৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি, যাদের মধ্যে তিনজন নারীও ছিলেন, নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। তারা গৃহকর্ত্রী আমিনা আহমেদের বাসার খোঁজ চায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জোর করে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে। সন্তানরা বিদেশে থাকায় তিনি গৃহকর্মীদের নিয়েই বাসায় থাকেন। ভবনটির অন্য ফ্ল্যাটের পুরুষ সদস্যরাও ওই সময় জুমার নামাজে মসজিদে অবস্থান করছিলেন।

জানা গেছে, ঢোকার পর দুর্বৃত্তরা বাসায় থাকা সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ‘অবৈধ জিনিস তল্লাশি’র অজুহাতে পুরো ঘর তছনছ করে। একপর্যায়ে তারা গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্মীদের জিম্মি করে আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে নেয়।

পরে বাড়ির নিচে পার্ক করা সদ্য কেনা টয়োটা করোলা গাড়িটি ‘তল্লাশি’ করার কথা বলে গৃহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নেমে যায়। একপর্যায়ে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়িটিসহ পালিয়ে যায় তারা।

গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে নেয় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের বায়েজীদ বোস্তামী, ইপিজেড ও কোতোয়ালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে তারা।

গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুল মতিন রাসেল (৩৫), আশরাফুল ইসলাম সাহেদ (২৯), মমিন (২৮), শারমিন আক্তার রিমা (৩০), নুর মোহাম্মদ সাব্বির রকি (২২), মো. রোবেল হোসেন (৩১) ও মো. ফয়সাল (২২)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতি হওয়া গাড়ি এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।

সাংবাদিক না, দোকানকর্মী!

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারও সঙ্গে সাংবাদিকতার সম্পর্ক নেই। তারা কেউ দোকানে কাজ করেন, কেউ ফ্রিল্যান্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা এর আগেও সাংবাদিক পরিচয়ে একই কৌশলে ডাকাতি করেছে, কিন্তু অনেক ভুক্তভোগী লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে সাহস পাননি।

বর্তমানে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ বলছে, আরও কয়েকজন সহযোগী পলাতক, তাদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ksrm