চট্টগ্রামের খুলশী এলাকা থেকে আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে এক শিশুসহ ৪২ পুরুষ ও ২০ জন মহিলা রয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার পর ৬৩ জনকে আদালতে তোলা হয়। মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ মুহাম্মাদ আবুল মনছুরের আদালত প্রত্যক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসময় দুটি প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে চীনের ৫ জন, লাউসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, নেপালের ১ ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন।
খুলশী থানার দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কারো কাছেই ভিসা ও পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ৬৩ জনের পাসপোর্ট ও ভিসা তাদের কাছে নেই। এসব নথি দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল। অভিযানে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা বাংলাদেশে বসে নিরাপদে অনলাইন জুয়া ও চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারনার কাজ করতেই দেশে আসেন তারা।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।
এক ভবনের ১৪ ইউনিট ভাড়া
পুলিশ জানায়, নিরাপদে অনলাইনে প্রতারণা ও জুয়ার কার্যক্রম চালানোর জন্য চক্রটি বাংলাদেশকে খুঁজে নেয়। এদের সাথে স্থানীয় কিছু লোক জড়িত রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বহুতল ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা কার্যক্রম চালাতো। দেড়মাস আগে ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া নেওয়া হয়। আর সেখানেই চলতো তাদের অনলাইন কার্যক্রম।
ফ্ল্যাটগুলোতে একাধিক সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। অভিযানে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
ধরা চুনোপুটি, রাঘব-বোয়ালরা বাইরে
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, যে ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সবাই মাঠ পর্যায়ের কর্মী। চক্রটির মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আরও জানান,
গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন চমকপ্রদ ওয়েবসাইট খুলে ও চাকরির কথা বলে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এ চক্রটির পেছনে কারা রয়েছে ও গ্রেপ্তাররা কিভাবে যুক্ত, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে থেকে একই অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কক্মবাজারের গ্রুপটির সঙ্গে চট্টগ্রামের গ্রুপটির কোনো সংযোগ আছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানান তারা।
বিএস/ডিজে




