দীর্ঘ দুই মাস নয়দিন পর অবশেষে খাবার মুখে তুলেছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দীঘির বহুল আলোচিত কুমির ‘ধলাপাহাড়’। বিশেষ ব্যবস্থায় কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তরের পরদিনই জীবিত মুরগি শিকার করে অনশন ভাঙে কুমিরটি।
ধলাপাহাড়ের খাবার গ্রহণের খবরে স্বস্তি ফিরেছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে। পাশাপাশি নতুন ঠিকানায় কুমিরটিকে একনজর দেখতে পার্কে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন বাগেরহাটে খানজাহান আলীর মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর আগে একটি কুকুরও কুমিরটির শিকার হয়। পরপর এসব ঘটনায় মাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ জুন কুমিরটিকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর ‘ধলাপাহাড়’কে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে ৩ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত টানা দুই মাসেরও বেশি সময় কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করেনি।
তবে শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় এবং শরীরে সঞ্চিত চর্বি থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়ায় দীর্ঘ সময় না খেয়েও কুমিরটি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিবেশের পরিবর্তন, নতুন আবাসস্থল ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চাপের কারণেই এতদিন খাবার গ্রহণ থেকে বিরত ছিল ধলাপাহাড়। পরে গত ১২ আগস্ট বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে কুমিরটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পার্কের দীঘিতে স্থানান্তরের পরদিনই একটি জীবিত মুরগি শিকার করে ধলাপাহাড়। এরপর থেকে কুমিরটি নতুন পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ধলাপাহাড়ের বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট। ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে ধলাপাহাড়ই বর্তমানে শেষ জীবিত কুমির।
খানজাহান আলীর ঐতিহাসিক দীঘির স্মৃতি পেছনে ফেলে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নতুন ঠিকানায় ধলাপাহাড় শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের।
ডিজে




