খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
ওসি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে পানছড়ি এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সন্তু গ্রুপ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (প্রসীত গ্রুপ)-এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
এর আগে গত ২৪ জুন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলার পৃথক দুই স্থানে গোলাগুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর দুই সদস্য নিহত হন। রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। একই ঘটনায় মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) আহত হয়েছেন বলে দাবি করে ইউপিডিএফ। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনী।
একই দিন দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া এলাকায় গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে ইউপিডিএফ। সংগঠনটির দাবি, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পার্বত্য অঞ্চলে সংঘর্ষ, সশস্ত্র তৎপরতা ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সিপি




