ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় তিন পুলিশের দায় পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সদস্যদের পাশাপাশি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিন পুলিশ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন—এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবল। এছাড়া খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফ হোসেনকে দায়িত্ব পালনে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

সিএমপি সূত্র জানায়, তদন্তে ঘটনায় জড়িত দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে।

গত ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার মোড়ে অটোরিকশা থামিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

তথ্যসূত্র বলছে, সেদিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফেরার পথে লালখানবাজার এলাকায় তাকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের ফোন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এরপর নাঈমের পরিবার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

ঘটনার পরদিন ১৩ জুন, শনিবার দুপুরে নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। যাদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার বাইরেও কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি জানান, তদন্ত শেষে কমিটি বেশ কিছু সুপারিশও করেছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনার তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিএমপি কমিশনার। গত ১৮ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে কমিটিকে আরও চার কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষে রোববার কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

এদিকে, এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম খুলশী থানার দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তে রয়েছে।

এনএইচ/ডিজে

ksrm