কোরবানির মাংস নিয়ে বিরোধ, প্রতিবেশীর ছুরির আঘাতে দুই ভাইসহ আহত ৩

চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির মাংস গ্রহণ না করাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সহোদরসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে আনা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বজল সুকানীর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—ওই এলাকার মাহবুবুর রহমানের ছেলে সাইফুর রহমান ও সাইদুর রহমান এবং তার মেয়ের জামাই মাহবুবুল আলম। এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের (৩৫) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আযহার কোরবানির পর শনিবার রাতে মাহবুবুর রহমানের পরিবার থেকে প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীরের পরিবারের কাছে কোরবানির মাংস পাঠানো হয়। তবে জাহাঙ্গীরের পরিবার ওই মাংস গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে রোববার সকালে মাহবুবুর রহমানের ছেলেরা প্রতিবেশীদের কাছে মাংস গ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

আহতদের পিতা মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরের ভাড়াটিয়া মামুন, মুকিল, সিরাজ ও নজরুলসহ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাহবুবুর রহমানের ছেলে সাইফুর রহমান ও সাইদুর রহমানকে আঘাত করা হয়। এছাড়া তাদের মেয়ের জামাই মাহবুবুল আলমকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, কোরবানির মাংস ফেরত দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। চেয়ারম্যান এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে আমরা শান্ত হয়ে যাই। পরে হঠাৎ করে কয়েকজন বহিরাগত এসে আমার দুই ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে এবং জামাতাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা জাহান গুরুতর আহত সাইফুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকালে দুই পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আমি গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে আবার সংঘর্ষের খবর পাই। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

কালারপুল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ও প্রতিবেশী বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় আহতদের পরিবার পটিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ডিজে

ksrm