আক্রান্ত
১৮৬৯৫
সুস্থ
১৫০৬২
মৃত্যু
২৯০

পৃথক ঘটনায় মা-মেয়েকে হত্যা/ কেক-ফুল নিয়ে এসে খুন করে গেল উন্মত্ত অতিথি

pic-18_205234
ফুল, কেক, ফল আর জুসের প্যাকেট নিয়ে অতিথি বেশে এসেছিলেন তিনি। গেটে পরিচয় দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী তা ইন্টারকমে গৃহকর্তাকে জানান। অনুমতি মিলে ওপরে যাওয়ার। ঘরে ঢুকেই গৃহকর্তাকে স্যার বলে সম্বোধন করে অতিথি বলতে থাকেন, ‘স্যারের’ জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে পারেননি, তাই সঙ্গে সামান্য উপহার এনেছেন। পূর্ব পরিচয় ছিল, তাই গৃহকর্তা অতিথিকে ভেতরের ঘরে নিয়ে যান। অতিথি গৃহকর্তাকে কেক আর জুস খেতে দেন। খাওয়ার ফাঁকে কথাবার্তাও চলছিল। হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান গৃহকর্তা। অতিথিও বেশ পাল্টে ফেলেন। হাতুড়ি দিয়ে গৃহকর্তার মাথায় আঘাত করেন। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে গৃহকর্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন অতিথি। মা-বাবার চিৎকার শুনে ছুটে আসে তাঁদের আট বছরের শিশুকন্যা। তার মাথায়ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সেই অতিথি। মা, বাবা আর বোনের এ দৃশ্য দেখে ভয়ে একটি কক্ষের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় ওই দম্পতির স্কুলপড়ুয়া বড় মেয়েটি। কিন্তু ছোট বোনের আর্তচিৎকার সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ফুলের টব হাতে বেরিয়ে আসে সে। উন্মত্ত অতিথিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে মেয়েটি, তবে পারেনি। উল্টো হাতুড়ির আঘাতে ছিটকে পড়ে মেঝেতে। এরপর অতিথি ঘরের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুন গিয়ে লাগে গৃহকর্ত্রীর শরীরে। একপর্যায়ে দুই বোনের চিৎকারে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। কিন্তু ততক্ষণে পালিয়ে গেছে সেই ভয়ংকর অতিথি। পরে আগুন নিভিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা গৃহকর্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান।     গত সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপপরিচালক (ডিডি-প্রকৌশল) শীতাংশু শেখর বিশ্বাসের (৪৫) বাসায় ঘটেছে এ নির্মম ঘটনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ও আগুনে পুড়ে মারা গেছেন শীতাংশুর স্ত্রী কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস (৩৬)। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া শীতাংশু ও তাঁর ছোট মেয়ে অয়ত্রী বিশ্বাস দ্বিতীয়া (৮) অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মহাখালীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। একই হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন আছে শীতাংশুর বড় মেয়ে শ্রবণী বিশ্বাস শ্রুতি (১৫)। সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে একই রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- সূর্যি বানু (৮৫) ও তাঁর বড় মেয়ে মাফিয়া বেগম (৫৫)। হত্যাকাণ্ডের পর ঘরের একটি ট্রাংক ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শীতাংশু ও তাঁর মেয়েদের বরাত দিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দাবি করেন, জহিরুল ইসলাম নামের এক পরিচিত ব্যক্তি অতিথি বেশে বাসায় ঢুকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ওই তাণ্ডব চালান। এরপর কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। জহিরুল গুলশানের হাজি আহমেদ সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপক। শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে শীতাংশুর। শেয়ারের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য জহিরুল এ হামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জহিরুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারীর পরিচয়, হামলার কারণ ও ঘটনার বিবরণে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে জহিরুলকে ঘিরেই রয়েছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জানা গেছে, কৃষ্ণা কাবেরী মোহাম্মদপুরের আদাবরের মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর মেয়ে শ্রুতি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। একই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে অয়ত্রী। কৃষ্ণা কাবেরীর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। শীতাংশু বিশ্বাসের বাড়ি রাজবাড়ীর বালিকান্দি উপজেলার মহরপুর গ্রামে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের ৩/১২ নম্বর ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ১/ডি নম্বর ভাড়া ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন শীতাংশু। পুলিশ ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য মতে, সোমবার রাত পৌনে ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে জহিরুল ওই ফ্ল্যাটে যান। এরপর আগুন লাগার খবর শুনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। শুরু হয় ছোটাছুটি, এ সুযোগে ১০টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যেই পালিয়ে যান জহিরুল। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক  বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার মূল কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। শীতাংশু ও তাঁর মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কিছুটা সুস্থ হলেই তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তকে ধরতে থানা-পুলিশসহ গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’ মোহাম্মদপুর থানার এসআই রাশেদুল হক সরকার জানান, ঘটনার পর প্রতিবেশীরা চারজনকে উদ্ধার করে মোহাম্মদপুরের কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর জখম ও দগ্ধ কৃষ্ণা কাবেরীকে মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কৃষ্ণার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ও শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া জখম দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে গেলে স্বজনরা জানান, কৃষ্ণার মৃত্যুর খবর শীতাংশু ও তাঁর সন্তানদের জানানো হয়নি। সাংবাদিকদেরও তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি স্বজনরা। শীতাংশু ও শ্রুতির বরাত দিয়ে হাসপাতালে শীতাংশুর ছোট বোন সঞ্চিতা বিশ্বাস  জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে কোচিং থেকে বাসায় ফেরে শ্রুতি। এর কিছুক্ষণ পরই বাসায় আসে এক ব্যক্তি। শীতাংশুকে স্যার বলে সম্বোধন করে সে। শীতাংশুর শোবার ঘরে বসে দুজন কথা বলছিলেন। একপর্যায় ওই ব্যক্তির জুস খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান শীতাংশু। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে অতিথি। ঘটনা টের পেয়ে কৃষ্ণা রান্নাঘর থেকে বঁটি নিয়ে ছুটে আসেন। সেই বঁটি কেড়ে নিয়ে কৃষ্ণার মাথায় কোপ দেয় অতিথি। এতে কৃষ্ণা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। বাবা-মায়ের ওপর হামলার বিষয়টি টের পেয়ে ভয়ে পাশের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় শ্রুতি। সে ফোনে কয়েকজন আত্মীয়কেও ঘটনাটি জানায়। এ সময় বাবা-মায়ের ওপর আক্রমণ দেখে ছুটে এসেছিল অয়ত্রী। তার মাথায়ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অতিথি। তখন বোনের চিৎকারে একটি ফুলের টব হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসে শ্রুতি। তখন শ্রুতির বাম হাতে আঘাত করে সেই ভয়ঙ্কর ব্যক্তি। সবশেষে গানপাউডার দিয়ে বাসায় আগুন দেয় সে। চলে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে অচেতন কৃষ্ণাকে আগুনের মধ্যে ফেলে দেয়। তখন দুই মেয়ে কাপড় চেপে ধরে মাকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করে। অয়ত্রী পাশের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন। সঞ্চিতার সঙ্গে কথা বলার সময় শীতাংশুর বড় ভাই হীমাংশু শেখর বিশ্বাস ও কৃপাংশু শেখর বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন। তবে বাসা থেকে কিছু লুট হয়েছে কি না তা বলতে পারছেন না তাঁরা। গতকাল ঘটনাস্থলে গেলে ভবনটির ফ্ল্যাট মালিকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাবের আহমেদ  বলেন, ‘রাতে চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম। ওই সময় শীতাংশু সাহেব পুলিশের কাছে জহিরুল নামটি বলেছেন। তিনি বলেছেন, জহিরুল গুলশানের হাজি আহমেদ সিকিরিটিজ লিমিটেডের ম্যানেজার। জহিরুল গুলশানের একটি ব্যাংেকর অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ারের টাকা বনানীর একটি ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে চেয়েছেন। শীতাংশু সাহেব এতে রাজি না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলাকারীর বয়স ৩০-৩২ বছর।’ বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আবদুর রহিম ও মো. ফারুক  জানান, রাত ৯টার দিকে যে ব্যক্তি আসেন তিনি শীতাংশুর পূর্ব পরিচিত। আগেও এসেছেন। ইন্টারকমে শীতাংশুকে জহিরুলের নাম জানালে তিনি উপরে যাওয়ার অনুমতি দেন। এরপর রাত সোয়া ১০টার দিকে নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনতে পান। তখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তাঁরা। তারপর ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে চারজনকে রক্তাক্ত ও দগ্ধ দেখতে পান। পাশের ফ্ল্যাটের রাসেল হোসেন ও মনিরুল ইসলাম জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ অফিসের কর্মী তাঁরা। সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা চিৎকার শুনে ঘরের বাইরে আসেন। তখন রক্তাক্ত অবস্থায় অয়ত্রী তাঁদের বলে, ‘আংকেল আম্মুকে বাঁচান’। এরপর ওই বাসায় ঢুকে তাঁরা দেখেন, শোবার ঘরে পড়ে আছেন কৃষ্ণা। পাশেই জানালার পর্দা ও টেবিলে আগুন জ্বলছে। কৃষ্ণার পাশে বিলাপ করছিল শ্রুতি। আহত অস্থায় পড়ে ছিলেন শীতাংশু। রাসেল ও মনিরুল প্রতিবেশীদের সহায়তা নিয়ে ঘরের আগুন নেভান। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটও সেখানে যায়। এরপর সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যান রাসেল ও মনিরুল। পরে হাসপাতালে আহতদের কাছে হামলার কথা জানতে পারেন।   গাজীপুরের মা-মেয়েকে হত্যা : গাজীপুর থেকে আমাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, সোমবার গভীর রাতে কাপাসিয়ার পাবুর গ্রামে শোবার ঘরে সূর্যিবানু ও মাফিয়া বেগমকে কুপিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। স্বজনরা বলছেন, মা-মেয়ের সঙ্গে এলাকার কারো শত্রুতা ছিল না। কী কারণে, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাঁরা ধারণা করতে পারছেন না।   গাজীপুরের এসপি হারুন-অর রশিদ দাবি করেন, মাদকাসক্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে সূর্যিবানুর স্বামী কৃষক মিয়ার উদ্দিন মারা যান। এরপর থেকে বার্ধক্যসহ নানা রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন সূর্যিবানু। তাঁর তিন ছেলে ও চার মেয়ে, সবাই বিবাহিত। বড় ছেলে রুহুল আমিন ও ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন কৃষক। মেজ ছেলে মহসিন আলী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ৩০ বছর ধরে মাফিয়া মায়ের সঙ্গে থাকতেন। দিনমজুরি করে তিনি নিজের ও মায়ের খরচ জোটাতেন। মায়ের চিকিৎসাসহ পথ্য কেনার জন্য মহসিন আলী সৌদি আরব থেকে কয়েক মাস পর পর টাকা পাঠাতেন। এক সপ্তাহ আগেও ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বড় ছেলে রুহুল আমিন জানান, মহসিনের পাঠানো টাকা থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে মায়ের ওষুধ ও কিছু খাবার এনে দিয়েছেন। বাকি টাকা মায়ের ঘরের ভেতর ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখেছিলেন। তাঁর মায়ের ঘরে একটি চৌকি, একটি বাঁশের তৈরি আলনা ও একটি ট্রাঙ্ক ছাড়া কোনো আসবাব ছিল না। ঘটনার পর ট্রাঙ্কটি ছিল ভাঙা। তাঁর দাবি, ট্রাঙ্কের ভেতর আট হাজার টাকা ও তাঁর মায়ের একজোড়া কানের দুলসহ কয়েকটি শাড়ি ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা টাকা, স্বর্ণালংকার ও শাড়িগুলো লুট করে। রুহুল আমিনের ধারণা, খুনিদের কেউ আগেই ঘরের ভেতর চৌকির নিচে লুকিয়ে ছিল। গভীর রাতে কোনো একসময় দরজা খুলে সহযোগীদের নিয়ে তারা তাঁর মা ও বোনকে কুপিয়ে হত্যা করে। ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে তাঁর মা ও বোন রাতের খাবার খেয়ে একই ঘরে ঘুমাতে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি নামে। ওই সময় ঘরের বাইরে থেকে তাঁর ভাতিজা হারুন-অর রশিদের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা হয়েছিল। হারুন-অর রশিদ জানায়, গতকাল সকালে ঘুম থেকে জেগে সে বাইরে থেকে তাঁর দাদিকে ডাক দেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া আসছিল না। দরজার খিলও খোলা ছিল। কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাঁর মা ঘরের ভেতর গিয়ে বিছানার ওপর সূর্যিবানুর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান। পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় গোঙাচ্ছিলেন মাফিয়া। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘মাফিয়া বেগমের মাথাসহ শরীরজুড়ে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।’ গতকাল দুপুরে এসপি হারুন-অর রশিদ ও এএসপি (কালীগঞ্জ সার্কেল) শফিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কাপাসিয়া থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এর আগে গত ১৯ মার্চ গভীর রাতে একই উপজেলার জায়গীর মধ্যপাড়া গ্রামে শোবার ঘরে ঢুকে গণধর্ষণের পর মাহফুজা আক্তারকে (১১) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ভাতিজিকে বাঁচাতে গেলে মাহফুজার এক ফুফুকেও গণধর্ষণের পর কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।    – কা ক

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

আরও পড়ুন
ksrm