আক্রান্ত
৯১২৩
সুস্থ
১০৮৪
মৃত্যু
১৮৪

কিডনি রোগী চমেকে গিয়ে করোনার কবলে, শেষে মৃত্যু হল ডায়ালাইসিসের অভাবে

0
high flow nasal cannula – mobile

কেবলমাত্র ডায়ালাইসিসের অভাবেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘করোনা ইউনিটে’ চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনার কাছে হেরে গেলেন ২৭ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। তিনি কিডনি জটিলতায় ডায়ালাইসিস করতে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। চমেক হাসপাতালের করোনা রোগীর জন্য ঢাকা থেকে আনা একটা ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও ছিল না মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শুদ্ধিকরণ যন্ত্র)। যে কারণে টানা ৪ দিন অপেক্ষার পরও ডায়ালাইসিস করাতে না পেরেই মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে এগারোটায় মৃত্যুর কাছে হারতে হয়েছে রাকিবুলকে।

জানা গেছে, গত ২ বছর ধরে যেখানে তিনি প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতেন, সেখানে টানা চারদিনেও ডায়ালাইসিস করাতে পারেননি তিনি। করোনা নয়, তাকে হারতে হয়েছে একটা মেশিনের কাছে।

মেশিনের এ পার্টসের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের চিকিৎসাসেবা মেশিনের কারণে যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য এক সপ্তাহ আগে সাময়িকভাবে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য ‘এনআইকেডিইউ- সান্ডুর’ ডায়ালাইসিস সেন্টারকে চিঠি দিলেও পাত্তা নেই তাদেরও।

এদিকে, চমেক হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু হওয়ার দুদিনের মাথায় অকেজো এ ডায়ালাইসিস মেশিনের পানি শুদ্ধিকরণ যন্ত্রের কথা জানাজানি হলে ২৩ মে ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ ব্যাপারে নিরুপায় বলে জানাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, চমেক হাসপাতালে করোনার সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরার বদলে এখন কেবলমাত্র ‘ডায়ালাইসিসের’ অভাবে মৃত্যু ঝুঁকিতে আছে রাকিবুল ইসলামের মত আরও অনেক করোনা পজিটিভ রোগী। তবে মৃত করোনা রোগীর স্বজনের অভিযোগ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে এসেই করোনা আক্রান্ত হন রাকিবুল ইসলাম।

এ বিষয়ে রাকিবুলের এক স্বজন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডায়ালাইসিসের অভাবে তার শরীরে পানি জমে যায়। চমেকে ভর্তির পর এ চারদিন ডায়ালিসিস করা হয়নি। এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্তও ডায়ালাইসিস করা হয়নি। এই ডায়ালাইসিস করাতে এসেই আমাদের রোগী করোনা আক্রান্ত হয়। করোনা পজিটিভ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে চমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করানো হয়। তারপর থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে করোনা টেস্ট করি। তারপর দেখি তার করোনা পজিটিভ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিডনি সমস্যা ছাড়া রাকিবুলের অন্য কোন সমস্যা ছিল না। সে সুস্থ ছিল। প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে ডায়ালাইসিস করানো হতো। এছাড়া সে বাসা থেকে একদমই বের হয় না। তার রুম একেবারে আলাদা, সে একা থাকতো। অন্যভাবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগ নাই। হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে আসার পর পরই তার জ্বর সর্দি কাশি হয়। এরপরে করোনা টেস্টে পজিটিভ আসে। ডায়ালাইসিস যখন হচ্ছিল না তখন ধারণা করেছিলাম এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। এই ডায়ালিসিসের কারণে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‌‌‌‘ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এখনো আসেনি। সান্ডুরের সাথেও যোগাযোগ করেছিলাম রিপ্লাই পাইনি এখনও। তাদের (সান্ডুর) বলেছিলাম ওদের ওয়াটার লাইন দিয়ে আমাদের হেল্প করতে নতুবা দুইটা মেশিনকে আলাদা করে দিতে অফিসিয়াল চিঠিও দিয়েছিলাম। তাদের ঢাকা হেড অফিসকেও চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও রিপ্লাই পাইনি। দ্যাটস হোয়াই কিছুই করতে পারছি না। এমন সিচুয়েশন দেখে এক সপ্তাহ আগে থেকে যোগাযোগ করছি, এখন কেউ যদি আমাদের সাথে কো-অপারেট না করে তাহলে জোর করে তো কিছু করতে পারি না। আমি তাদের জানিয়েছি, চিঠি দিয়েছি। কাল বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়ে জানাবো— ‘কেন তারা আমাদের হেল্প করছে না।’

মেশিনের পার্টস কবে আসবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটার ব্যাপারটাও আমি ঠিক জানি না। ওই মেশিন সেটআপ করতে এটলিস্ট ১৫ দিন লাগে। এটা বিশাল একটা ব্যাপার। ওটার রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট সরকারিভাবে দেওয়া আসলেই এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। এখন এরা (সান্ডুর) আমাদের সাথে কো-অপারেট করলে আমরা কাজ করতে পারতাম। আমরা তাদেরকে চিঠি দিয়েছি এক সপ্তাহ আগে। এখানকার লোকাল অথরিটি বলেছে তারা বসে কিছু একটা জানাবে। কিন্তু এতদিনেও রিপ্লাই দেয়নি।’

প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় গত ১৬ মে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়ে ২১ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চালু হয় করোনা ইউনিট। করোনা ইউনিট চালু হওয়ার দুই দিনের মাথায় দেখা দিয়েছে মেশিন বিভ্রাট। করোনার সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরার বদলে এখন কেবলমাত্র ‘ডায়ালাইসিসের’ অভাবে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়েছে করোনা পজিটিভ রোগীরা। এর আগেও একবার করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরুর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পড়তে হয়েছে বেকায়দায়। নমুনা পরীক্ষা দেরি হওয়া নিয়ে আহামরি ক্ষতি না হলেও অকেজো এ ডায়ালাইসিস মেশিনের কারণেই মারা গেলেন করোনা রোগী রাকিবুল ইসলাম।

এসআর/এসএস/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামের দুই বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষাকাণ্ড

শেভরনে করোনা পজিটিভ, ইম্পেরিয়ালে নেগেটিভ!

ksrm