ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কালিমার পতাকাকে ব্যবহার করে জঙ্গি তৎপরতা ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ দরগাহ-মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটি। সংগঠনটি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দরগাহ-মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ তৌহিদুল কাদের চৌধুরী, মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ছোবহানীসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা বলেন, পবিত্র কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঈমান ও সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার বিষয়। কালিমার প্রতি তাঁদের পূর্ণ সম্মান ও অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কালিমার পতাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিতর্কিত অপচেষ্টা ও অরাজকতা চালানো হচ্ছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সংগঠনটি।
তাঁদের দাবি, এসব ঘটনাকে তরুণ সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ কিংবা সাংস্কৃতিক ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাঁদের ভাষ্য, পবিত্র কালিমার পতাকার আড়ালে একটি চিহ্নিত জঙ্গি গোষ্ঠী সুকৌশলে নিজেদের গোপন এজেন্ডা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে কালিমার পতাকার নামে মাঠপর্যায়ে যা ঘটছে, তা কোনোভাবেই কালিমার পতাকার প্রকৃত অনুশাসন, অনুকরণ বা অনুধাবনের বিষয় নয়। পবিত্র পতাকাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে জঙ্গিরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সুযোগ নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। একই সঙ্গে নেতারা বলেন, এসব ঘটনাকে নিছক আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, ধর্মীয় আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অরাজকতা ও উগ্রবাদী তৎপরতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যারা পবিত্র কালিমাকে বিতর্কিত করছে এবং উগ্রবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনটি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দেশের জনগণের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে, বিশেষ করে কালিমার পতাকার দোহাই দিয়ে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং মানুষকে বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব উসকানিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিও আবেদন জানানো হয়েছে।




