কাট্টলীর ৩ স্পটে মাদকের বড় কারবার, সন্ধ্যা হতেই বিক্রি রমরমা

তিনজনের নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকা

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার কাট্টলী এলাকায় বেড়েছে মাদক কেনাবেচা। সন্ধ্যা নামতেই এলাকাজুড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিক্রেতারা। এর মধ্যে ক্রেতারা আসতে থাকলে সিগন্যাল দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর বিক্রি করা হয় মাদক। এছাড়া ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে মাদক এনে দেওয়ার জন্যও রয়েছে আলাদা লোক। এভাবে এলাকার তিন স্পটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন মাদক কারবারিদের চক্র। মূলত এক নারীসহ তিন মাদক কারবারির হাতে জিম্মি পুরো এলাকা। তবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরও কিছু ছোট ছোট বিক্রেতা।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কাট্টলী এলাকার ময়ূরী ক্লাবের রাস্তার শেষ প্রান্তে লিংক রোড মূল সড়কের আগে রেল লাইন, কাট্রলী ঈশান মহাজন রোডে ছোট কালীবাড়ি, বড় কালী এলাকা যেন ইয়াবার স্বর্গরাজ্য। এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হলেও বেশকিছু মুসলিম পরিবারেরও বসবাস রয়েছে এলাকায়। কিন্তু মাদক কারবারিদের ভয়ে সন্ধ্যার পর থেকে পরিবার নিয়ে বের হতে ভয় পায় লোকজন, মেয়েরা চলাচলে বিড়ম্বনা পোহায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মী (৫৫) নামে এক নারীর বড় চক্র রয়েছে এলাকায়। তিনি দত্তবাড়ির মৃত কমল দত্তের স্ত্রী। কিন্তু পুলিশ ধরতে এলেই রাতের আঁধারে বিলের মধ্যে নেমে দ্রুত সটকে পড়েন তিনি।

অপর দুই কারবারি হলেন—কর্নেল হাট সিডিএ ১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামালের ছেলে রাকিব। তিনি বসুন্ধরা কনজ্যুমারে চাকরি করেন। সকালে চাকরির পাশাপাশি তিনি রাতে ইয়াবা বিক্রি করেন। এছাড়া পারভেজ নামে আরেক মাদক কারবারি আছেন, যিনি রাকিবের সহযোগী। ছোট কালী বাড়ি রিকশার গ্যারেজ এবং আশপাশের এলাকায় তিনি মাদক সরবরাহ করেন।

ছোট কালীবাড়ি কালী মন্দির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল দে বলেন, এই মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে এলাকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে পরিচয় গোপন রেখে এলাকার একটি টং দোকানে প্রতিবেদক ইয়াবার ক্রেতা সেজে চা খেতে বসলে, পাশে হাজির হয় গফুর নামে এক ব্যক্তি। তিনি মূলত ইয়াবা পৌঁছে দেন বিভিন্ন ক্রেতার কাছে। ৩ পিস ইয়াবা লাগবে জানালে তিনি কিছু বখশিশ চান। তারপর তার হাতে ১ হাজার টাকার নোট দিলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এরপর ৫ মিনিটের মধ্যে ছোট পলিতে মোড়ানো ইয়াবা হাতে দিয়ে চলে যেতে বলেন।

রাত ১২টার দিকে ফৌজদার হাটের সঙ্গে সংযোগ হওয়া রেললাইন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রেললাইনের দুই পাশে জোনাকি আলো মতো মিটমিট জ্বলছে কিছু একটা। পরে একটু এগিয়ে গেলে দেখা যায়, বেশ কিছু লোক বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে ভেতরে বসে ইয়াবাসেবন করছেন আর গ্যাস লাইটের আলোটি মিটমিট করে জ্বলছে।

ক্রেতা সেজে মাদক কারবারি রাকিবকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে কাকে কল দিয়েছি, কেন কল দিয়েছি জানতে চান। এরপর তিনি কথা বলার আগেই ফোন কল কেটে দেন।

আরেক মাদক কারবারি পারভেজের মুঠোফোন নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষয় আমার নজরে এসেছে। অভিযান চালানোর জন্য একটি টিম তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত মাঠে নামবে তারা।’

ডিজে

ksrm