কাউন্সিলরের খুটির জোরে হালিশহরের রাস্তায় অবৈধ পশুর হাট, পুলিশও ম্যানেজ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে পুঁজি করে রাস্তা দখল করে প্রকাশ্যই বসিয়েছে গরুর হাট। থানা পুলিশও ম্যানেজ। লিখিত আইনেরও ধার ধারে না তাঁরা। পুলিশকে জিন্মি করেই গায়ের জোর খাটিয়ে রাস্তা দখল করে পশুর হাট বসানো অবাক করছে স্থানীয়দের। শুধু কি তাই? সেই অবৈধ হাটে মাইক লাগিয়ে বড় গলায় বলছে, চসিকের অনুমোদিত হাট। কিন্তু এমন হাটের অনুমোদন দেওয়াতো দূরের কথা, এই হাটের নামই জানে না চসিকের দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

বলছিলাম, নগরের হালিশহর থানাধীন ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের বড়পোল এলাকার এক পশুর হাটের গল্প।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ইলিয়াস হোসেনের আশ্রয়ে গড়ে উঠেছে এই পশুর হাট।

আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে নগরে ৯টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সেই সাথে জেলা প্রশাসনও জুড়ে দিয়েছে ১৪ টি শর্ত।

কিন্তু নগর জুড়ে চলমান কোরবানির হাটকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে কোরবানির হাট বসিয়ে রীতিমত চাঁদাবাজির পসরা সাজিয়েছে এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

তবে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন বলছে, অনুমোদিত ও অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে কোনো চক্র যদি কোরবানির হাট বসায় সেক্ষেত্রে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

কিন্তু এসব নিয়মকানুন ও বাঁধা নিষেধকে তোয়াক্কাই করছে না নগরের হালিশহর থানাধীন বড়পোলের কিছু স্থানীয় ব্যক্তি। কোরবানির হাটকে পুঁজি করে রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে হাট বসিয়েছে তাঁরা। বিনিময়ে গরু ব্যাপারিদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের যোগসাজসে প্রকাশ্যেই রাস্তা দখল করে গরুর হাট বসানোর দুঃসাহস দেখাচ্ছে তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের হালিশহর থানাধীন বড়পোল মোড়ে ব্রীজের পাশে চলাচলের রাস্তায় বিশাল গরু ছাগলের হাট। ফলে ওই রাস্তা পুরোদমে সাধারন মানুষের হাঁটার অনুপযুক্ত। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হালিশহরের মইন্নাপাড়া এলাকার সিএসডি গোডাউনের কথিত শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর সোহেলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ২০ সদস্যর একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও থানা থেকে কোনো অনুমতি না নিয়েই চলাচলের রাস্তা দখল করে বসিয়েছে তারা গরু ছাগলের একটি বিশাল বাজার।

আলী আজগর সোহেলের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সেই সিন্ডিকেটের মধ্য রয়েছে, মো. কাদের প্রকাশ চেইন কাদের, রানা, খোরশেদ, জাহিদ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, কিভাবে মূল সড়ক দখল করে এমন হাট বসানোর দুঃসাহস পায় তারা বর্তমানে ওই সড়ক চলাচলের অনুপযুক্ত।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কথিত শ্রমিক লীগ নেতা আলী আজগর সোহেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিসি অফিসে ব্যস্ত আছি। এই কথা বলেই মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

বড়পোলের এই ভাসমান পশুর হাটকে অবৈধ বলে স্বীকার করে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বড়পোলের এই ভাসমান পশুর হাটটি অবৈধ।আমি এখনই অবৈধ হাট বসানোর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, হালিশহর এলাকায় গোডাউন সংলগ্ন পরিত্যাক্ত একটি মাঠে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্রীজের পাশে রাস্তা দখলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আপনার মাধ্যমে যে অভিযোগটি শুনলাম, আমি এখনই বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে অবৈধ হাটের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। চক্রের সদস্যরা দলে দলে হাজিরা দিতে থাকে থানায়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গড়াতেই আবারও মাইকিং শুরু হয়। মাইকিং এ বলা হয় সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত হাট এটি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লায়ন ইলিয়াস চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, খাল পাড়ে এই হাট বরাবরই অবৈধ। অবৈধ হলেও এবার এই হাট থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব পাবে চসিক। অবৈধ হাট থেকে কিভাবে সিটি কর্পোরেশন রাজস্ব পাবে আর কিভাবে এই রাজস্ব সরকারী কোষাগারে জমা হবে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে কাউন্সিলর প্রতিবেদককে এই হাটের বিষয় নিয়ে মানবিক হওয়ার অনুরোধ করেন।

হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কাউন্সিলর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অবৈধ এই পশুর হাটকে বৈধতা দিয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গরুর হাটের উপর ১৪টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই শর্ত ভঙ্গ করে কেউ যদি গরুর বাজার পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন। আবার বড়পোলে রাস্তা দখল করে গরুর হাট বসানোর অভিযোগ পেয়েছি। অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে জড়িতদের বিরুদ্ধে।

এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!