কর্ণফুলীর ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তদন্তে ধীরগতি, এখনও অধরা দ্বিতীয় আসামি
পুলিশের তদন্তে স্বজনদের অসন্তোষ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় ব্যবসায়ী দিদারুল আলম হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৩৬ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু জাফরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
গত ১০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিদারুল আলম (৪৯) নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক ছিলেন। চার কন্যা সন্তানের জনক দিদারের বাড়ি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর গ্রামে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শারমিন সুলতানা বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি আবু তৈয়ব একসময় দিদারুল আলমের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তিনি দিদারুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ইউনিয়নের মইজ্জারটেক মোড়ে পৌঁছালে দিদারুল আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আবু তৈয়ব ইট দিয়ে তাঁর মাথা, মুখ ও চোখে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আবু তৈয়বকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও দ্বিতীয় আসামি এখনও পলাতক। এছাড়া আসামিদের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংসহ সম্ভাব্য অন্যান্য সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হলেও সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য সোমবার (১৮ মে) আদালতে দিন ধার্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতারে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। এরপরও অগ্রগতি না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মজুমদার জানান, প্রধান আসামি আবু তৈয়ব গ্রেফতার আছেন এবং দ্বিতীয় আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আসামিদের পরিচয় যাচাইয়ে পটিয়া থানায় পাঠানো অনুসন্ধানের জবাবও মেলেনি বলে জানান তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তৈয়ব দিদারুল আলমের কাছে টাকা পাওনার দাবি করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁর কোনো টাকা পাওনা ছিল না। বরং দিদারই তাঁকে গ্রাম থেকে এনে দোকানে কাজ দিয়েছিলেন। পরে অস্বাভাবিক আচরণ ও অযৌক্তিক অর্থ দাবির কারণে তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিক সালিশ হলেও তৈয়ব কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে পরিবারের দাবি।




