s alam cement
আক্রান্ত
৩৪৪৬৬
সুস্থ
৩১৭৭৫
মৃত্যু
৩৭১

করোনা বাড়তেই চট্টগ্রামে আইসিইউ নিয়ে হাহাকারের পুরনো ছবিটাই আবার!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

0

চট্টগ্রামের চিকিৎসক নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমানের একজন রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ছয় দিন ধরে চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া ওই রোগীর জন্য সরকারি হাসপাতালে একটি আইসিইউ সিটের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেও সফল হননি তিনি। এটিই প্রথম নয়, চলতি নভেম্বর মাসের বিভিন্ন সময়ে আরও তিনজন রোগীর জন্য তদবির করেও সরকারি হাসপাতালে একটি আইসিইউ সিট ‘ম্যানেজ’ করতে পারেননি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) এই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তারই যখন এই দশা, সেখানে সাধারণ মানুষের কী দুর্দশা যাচ্ছে— সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

মাঝে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের জন্য ‘ডেডিকেটেড’ আইসিইউ শয্যা কিছুটা খালি গেলেও পুরো নভেম্বর মাস জুড়েই আবার আইসিইউ না পাওয়ার পুরোনো ছবিটাই ফিরে আসতে শুরু করেছে চট্টগ্রামে। সামনের দিনগুলোতে এটি আরও ব্যাপক রূপ নেওয়ার আশঙ্কার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা রোগীদের জন্য ‘ডেডিকেটেড’ আইসিইউ শয্যায় হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন সিভিল সার্জনসহ চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালের পরিচালকরাও।

আইসিইউ জরুরি— এমন রোগীর সংখ্যা নভেম্বর মাসে বাড়ছে এমন কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, এখন কিছু শয্যা খালি আছে। তবে তুলনামূলকভাবে নভেম্বরে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

তবে করোনার চিকিৎসায় আইসিইউ খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় জানিয়ে সিভিল সার্জন বললেন, ‘করোনায় অক্সিজেন আর হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সবচেয়ে বেশি দরকার। সেসব ক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তবুও পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে, মানুষকে সচেতন হতেই হবে। বারবারই এই একটা বিষয়ে আমরা জোর দিচ্ছি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’

Din Mohammed Convention Hall

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা রয়েছে মোট ৩০টি। যদিও এর মধ্যে হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের ১০টি আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সুবিধা নেই। সেই সিটগুলোতে গত কয়েক মাসে একজনও রোগী ভর্তি হয়নি। বাকি ২০টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ১৫টি এবং শনিবার (২৮ নভেম্বর ১২টি শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৩২টি আইসিইউ শয্যার বিপরীতে ২৬ নভেম্বরের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট ৪৩ জন কোভিড রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল দাবি করে অনাগত সময়ের কথা ভেবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আরও সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি তুলছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ। সামান্য একটু উদ্যোগ নিলে অল্প সময়ে চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের জন্য আরও আটটি ‘ডেডিকেটেড’ আইসিইউ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘নভেম্বর মাসজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালি ছিল না বললেই চলে। এমনও হয়েছে সকালে সিট খালি হলেও সন্ধ্যায় আবার ফিলআপ হয়ে গেছে।’

বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খালি থাকলেও সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ‘আমার একজন রোগী ছয় দিন ধরে বেসরকারি একটা হাসপাতালে আছে। যেখানে প্রথম দিনেই বিল এসেছে ৫০ হাজার টাকা। এরপর প্রতিদিন ৩০ হাজার করে বিল আসছে। এটা তো সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব না।’

একটু সদিচ্ছা থাকলেই চট্টগ্রামে আরও বেশ কিছু আইসিইউ শয্যা যোগ করা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালে আটটি আইসিইউ সিট অনেকটাই প্রস্তুত। আদালতের নির্দেশ থাকার পরও সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। শুধু মাত্র আটটি মনিটর আর লোকবল নিয়োগ দিলে দু-একদিনের মধ্যেই এই আটটি শয্যা প্রস্তুত করা যায়।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘ওই আটটি আইসিইউ সিট সেটআপ করা আছে। খালি মনিটর হলেই সেগুলো সার্ভিসে যেতে পারবে। আমরা মনিটরের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছি। আশা করি পেয়ে যাব।’

এআরটি/সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন

ইয়াবা ধরে বেচে দিতেন চট্টগ্রামের দুই পুলিশ

চট্টগ্রামের সেই ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশকে জেলেই যেতে হল

নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ মিলেছে, বলছে দুদক

স্ত্রীসহ আমীর খসরুকে আবার ডেকেছে দুদক, ভায়রাও আছে

ksrm