করোনা কতোটা ভয়ংকর হতে যাচ্ছে দেশজুড়ে, জানা যাবে মধ্য আগস্টে

জুলাইকে টপকে যাওয়ার শঙ্কা স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত ১৬ মাসে এই এক জুলাই মাস চট্টগ্রামসহ সারা দেশে যা ঘটিয়েছে, অতীতে এমনটি আর দেখা যায়নি কখনোই। করোনা সংক্রমণ, রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু— এই সবকিছুতেই চলতি জুলাই মাস আগের যে কোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। অথচ মাসটি শেষ হতে এখনও হাতে আছে আরও সপ্তাহখানেক। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ আশঙ্কা করছেন, সামনের আগস্ট হতে পারে আরও ভয়ংকর— যা কিনা জুলাইকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চলতি জুলাইয়ে হঠাৎ করেই চট্টগ্রাম তো বটেই, সারা দেশেই হঠাৎ করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে করোনার সংক্রমণ। এর প্রভাব পড়ে চিকিৎসাসেবায়। আগে করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে ঘরে থেকেই সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা কম ছিল না, কিন্তু জুন-জুলাইয়ের দিকে হাসপাতালগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে শুরু করে। এতে সাধারণ শয্যা তো বটেই, আইসিইউও আর ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না।

পাওয়ার কথাও নয়, কারণ গত জুনে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন। অথচ চলতি জুলাইয়ের মাত্র ২০ দিনেই রোগী শনাক্ত ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জুন মাসে যেখানে মোট মৃত্যু ছিল ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ের মাত্র ২০ দিনেই সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি।

এর মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি গেছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের লকডাউন জারি করা হয়েছে। যদি বিশেষ কোনো ঘোষণা না আসে, তাহলে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) মধ্যরাতের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রাম থেকে শহরে ফিরবে। এই যাওয়া-আসা ছাড়াও গরুর হাট ও ঈদকেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগে করোনার সংক্রমণ কোন্ মাত্রায় ছড়িয়েছে— সেটা বুঝতে অপেক্ষা করতে হবে আরও সপ্তাহদুয়েক। সুনির্দিষ্ট করে বললে, আগস্টের মাঝামাঝিতে স্পষ্ট হয়ে যাবে ভেতরে ভেতরে করোনা কতোটা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ বলছেন, করোনার রূপ যাই হোক না কেন চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে যেতে পারে হাসপাতালগুলো।

Yakub Group

তারা বলছেন, সবচেয়ে বড় কথা করোনার সংক্রমণ কমার লক্ষণ নেই। সংক্রমণের এই উর্ধগতি আগস্ট ছাড়িয়ে সেপ্টেম্বর মাসে গিয়েও ঠেকতে পারে।

করোনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদী বললেন, ‘আমাদের গত চার মাসের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রামে আলফা ও বিটা ভেরিয়েন্টের প্রকোপ ছিল মে মাস পর্যন্ত। কিন্তু জুন থেকে ৯০ ভাগ রোগীর মাঝেই ডেল্টা ভেরিয়েন্ট দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে শিশুদের মাঝে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া।’

নগরে করোনার সংক্রমণ বরাবরই থাকলেও এখন গ্রাম-উপজেলায়ও করোনা ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমেই। এরকম অনেক জায়গায় তৈরি হচ্ছে করোনার নতুন নতুন ‘হটস্পট’।

চট্টগ্রাম নগরীর বাইরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধমুখী গ্রাফ নিয়ে এতোদিন চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল হাটহাজারী কিংবা সীতাকুণ্ডের মতো চট্টগ্রাম উত্তর জেলার উপজেলাগুলো। দক্ষিণের উপজেলাগুলো এতোদিন অনেকটা থেমে থেমে সংক্রমণ ছড়ালেও হঠাৎ করেই সেখানে বড় একটি বাঁকবদল ঘটেছে। উত্তরকে পেছনে ফেলে দক্ষিণে আচমকা বেপরোয়া রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার চার উপজেলা করোনা সংক্রমণে নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। এই চার উপজেলা হচ্ছে পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়ারা।

এই সবকিছু মিলিয়ে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, ভেতরে ভেতরে করোনা কতোটা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে— এই চিত্রটি দেখতে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm