s alam cement
আক্রান্ত
৫১০১৯
সুস্থ
৩৭০৬২
মৃত্যু
৫৫৫

করোনায় কাজ নেই, অভাবের জ্বালায় জেলে যেতে চান যুবক

‘পুলিশে ধইরা নিলেগা বাঁচি’

0

‘দেড় বছর ধইরা সিআরবি-আজিজ স্টেডিয়াম এলাকাত বাদাম বেচতাছি। করোনার আগে দিয়া বাদাম বেইচ্যা দিনে ৬০০ টেহার মতন পাইতাম। ঐডা দিয়া ডাইলভাত খায়া ভালোই চলতাম। করোনার পরেত্তে মরুণের দশা। দিনে যা কামাই হেইডা দিয়া তিনবেলা খাওন দূরে থাক ঘর ভাড়াই দিতাম পারি না। পুলিশে ধইরা নিলেগা বাঁচি। অন্তত জেলে গিয়া তিন বেলা খাইতে পারমু।’

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সামনে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের এই প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন ৪০ বছর বয়সী বাদাম বিক্রেতা মোহাম্মদ খলিল।

ভৈরব উপজেলার কালিকা প্রাসাদ ইউনিয়নে তার বাড়ি। বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করলেও দেড় বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় চলে আসেন বন্দরনগরীতে। সাথে নিয়ে আসেন মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-মেয়েকেও। চার হাজার টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া নেন। করোনার আগে সারাদিন ৭০০ টাকার মতো রোজগার হতো তার। সেই টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে ভালোই চলতো সংসার।

কিন্তু করোনার কারণে তার আয় নেমে এসেছে দুই-তৃতীয়াংশেরই নিচে। সারাদিনের আয় দিয়ে একবেলার খাবার জোগাতেই তার কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অভাব-অনটনে অতিষ্ঠ হয়ে এখন স্বেচ্ছায় জেলে যেতে চান খলিল। সেখানে অন্তত তিন বেলা খাবার পাবেন— এটা তার বিশ্বাস।

খলিল চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বাড়িতে দিনমজুরি করে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-মেয়ে নিয়ে মোটামুটিভাবে চলতাম। চট্টগ্রামে ভালো ইনকাম হয় শুনে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে আসি এখানে। সিআরবি, এম আজিজ স্টেডিয়াম এলাকায় সারাদিন ঘুরে ঘুরে বাদাম বেচা শুরু করি।

তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে ভালোই ইনকাম হতো। সবাইকে নিয়ে তিনবেলা ডাল ভাত খেয়ে দিন পার করতাম। কিন্তু করোনার পর থেকে আগের মতো মানুষ আড্ডা দিতে আসে না। ইদানিং মানুষের জমায়েত বাড়লেও তারা আগের মতো বাদাম কিনে না। দিনে ২০০ টাকাও বেচতে পারি না। এই টাকা দিয়ে একবেলা খাবারই হয় না। তার ওপর বাসা ভাড়া তো আছেই।

Din Mohammed Convention Hall

একবুক হতাশা নিয়ে খলিল বললেন, ‘এখন চিন্তা করতেছি পুলিশ যদি ধরে নিয়ে যায় সেটাও ভালো। জেলে অন্তত তিন বেলা খাবার তো পাবো।’

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm