আক্রান্ত
১১৭৬৪
সুস্থ
১৪১৪
মৃত্যু
২১৬

করোনার ধাক্কায় ‘গরম মসলা’র গরম কমেছে, কোরবানির বাজারও ঠান্ডা

0
high flow nasal cannula – mobile

ঈদ আসবে অথচ কোরবানির বাজারে মসলার দাম বাড়বে না কিংবা মসলাপাড়ায় কেনাবেচার ধুম থাকবে না— তা কি হয়! প্রতিবছর ঈদ এলেই সরগরম হয়ে ওঠে মসলার বাজার। এলাচ, দারুচিনি, জিরা, লবঙ্গ, পাঁচফোড়নসহ প্রায় সব মসলাপণ্যের চাহিদার সঙ্গে বাড়ে দামও। এবার কিন্তু সে দৃশ্যপট কিছুটা ব্যতিক্রম। ঈদকে সামনে রেখে দাম বাড়ার দীর্ঘদিনের সে রীতিনীতিতে ‘করোনাভাইরাস’ যেন ভাটা ফেলেছে। তাই ঈদের আগে পাইকারি বাজারে তেমনটা বাড়েনি মসলার দাম। কিছু ক্ষেত্রে বরং আরও কমেছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে অন্য সব ক্ষেত্রের মতো জনজীবনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঈদে খুব একটা আয়োজন নেই। আবার ঈদ ছাড়াও বিয়ে-মেজবানসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মসলাপাড়ায় যে উৎসবের ধুম লেগে থাকতো, করোনার কারণে সেসব আয়োজনও নেই। এছাড়া পরিবহন সমস্যার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পণ্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আগে যেখানে পণ্য সরবরাহ ৯০ শতাংশ, সেটা এখন প্রায় ১০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।

পাইকারি বাজার থেকে যেসব পণ্য খুচরা বাজারে যাওয়ার কথা ছিল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা গেছে। প্রায় কাছাকাছি বাজারগুলোতেই শুধু সরবরাহ চলমান রয়েছে। আর এ কারণে পাইকারি বাজারগুলোতে পণ্য জমে গেছে। অন্যান্য সময়ের মতন ঈদকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। একদিকে চাহিদা নেই, অন্যদিকে বেচাকেনাও নেই। এরপরেও চলমান পরিস্থিতিতে যদি ঈদে মসলার চাহিদা বাড়ে, তবুও দাম বাড়ার তেমন আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, গত ১৩ মে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠক করে গরম মসলার দাম ১০ থেকে ২৫ ভাগ কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি। তারও একটা প্রভাব মসলার বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আলোচনার পর বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি গরম মসলার মূল্যতালিকা ঘোষণা করে। মূল্যতালিকাটা এরকম— জিরা (ভারতীয়) প্রতিকেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, দারুচিনি (চীন) প্রতিকেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) প্রতিকেজি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ প্রতিকেজি ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা, এলাচ প্রতিকেজি ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা, গোলমরিচ (কালো) ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা।

চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের একমাত্র পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এসব পণ্যের দাম কিছুটা এদিক-সেদিক। সেখানে জিরা (ভারতীয়) প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকায়। ইরান বা সিরিয়ান জিরা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। দারুচিনি (চীন) ২৭০ থেকে ২৭৫ টাকা, একটু ভালো মানের দারুচিনি (ভিয়েতনাম) ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলমরিচ ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ ৬৮০ টাকা, তেজপাতা ৮০ টাকা, ধনিয়া ৭০ টাকা, ভালো মানের ধনিয়া প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ধরে। মিষ্টি জিরা প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাচ প্রতিকেজি ২৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুচরা বাজারের পণ্যের মূল্যতালিকা অনুযায়ী গত বছর যেখানে কেজিপ্রতি জিরার দাম ছিল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা, লবঙ্গ ছিল ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা আর তেজপাতা ছিল ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা— সে তুলনায় এ বছরে মসলার বাজারে দাম অনেকটা পড়তির দিকে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি গরম মসলার ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ ছাড়াও প্রতিবছর ওরশ, মেজবান, বিয়ে-শাদির জন্য বাজারে মসলার চাহিদা ব্যাপক থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চলমান পরিস্থিতিতে এসব আয়োজন বন্ধ থাকায় মজুদকৃত মসলা অনেকটাই অবিক্রিত রয়ে গেছে। আবার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মসলার সরবরাহ তেমন একটা নেই। এসব কারণে মসলার বাজারে কোরবানির আমেজ নেই বললেই চলে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী আবু মোহাম্মদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনায় বলতে গেলে মধ্যবিত্তদের পকেট খালি। তাই মানুষ কোরবানি করবে কিনা সন্দেহ আছে। যদি কোরবানি করেও সেটা ৩০ শতাংশের বেশি হবে বলে মনে হয় না। মানুষ এখন হিসেব করে চলছে। আগে যেখানে পাঁচ-ছয় আইটেম তরকারি খেত, এখন কোনোভাবেই দিন পার করছে। করোনার কারণে এ বছর আর মসলার বাজারে কোরবানির কদর নাই।’

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সোলায়মান বাদশা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখন বেচা-বিক্রি নাই। বাজারে সব জিনিসের দাম কম। কোন কিছুর দাম বাড়তি নেই। কোরবানির বাজারে সব মসলাপণ্যের দাম কমেছে। আগে যেখানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসলাপাতি বা পণ্য সরবরাহ ছিল ৯০ শতাংশ, এখন সেটা ১০ শতাংশে নেমে আসছে, আবার একইসাথে নতুন পণ্যও বাজারে আসছে। সেকারণে আগের মসলাগুলো অবিক্রীত রয়ে আছে। করোনা পরিস্থিতি অন্য সব কিছুর মত মসলার বাজারেও প্রভাব ফেলেছে।’

এসআর/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm