s alam cement
আক্রান্ত
৩২৭৩৮
সুস্থ
৩০৫৪৬
মৃত্যু
৩৬৯

করোনার উপসর্গ নিয়ে স্মার্ট জ্যাকেটের জিএমের মৃত্যু, লাশ দাফন গোপনে

চিকিৎসা দিতে চায়নি ম্যাক্স হসপিটাল

0

সর্বশেষ শনিবারও (১৬ মে) চট্টগ্রাম ইপিজেডের ৫ নম্বর রোডের স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডে কাজ করেছেন তিনি। জ্বর-সর্দি তার আগে থেকেই ছিল। করোনার উপসর্গ নিয়েই এই কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছিলেন। অবস্থা খারাপ হতে থাকলে রোববার (১৭ মে) তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যান নমুনা দিতে। সেখানে প্রচণ্ড ভীড় দেখে তিনি বাসায় ফিরে যান। ইফতারের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি নগরীর মেহেদীবাগে ম্যাক্স হসপিটালে গিয়ে আইসিইউ সাপোর্ট চান। সেখান থেকে তাৎক্ষণিক ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। এরপর নগরীর সিটি গেইট সংলগ্ন করোনা ফিল্ড হসপিটালে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মারা গেলেন ওই কর্মকর্তা।

তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেয়ে এভাবেই মারা গেলেন চট্টগ্রামভিত্তিক স্মার্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান স্মার্ট জ্যাকেটের জিএম (এডমিন) মহিউদ্দিন। রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১০টায় ৫৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। সোমবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই কর্মকর্তার রিপোর্টের ফলাফল জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্মার্ট গ্রুপের ওই কারখানা থেকেই চিকিৎসকদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) তৈরি করেছিল, যার মান নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠেছিল।

জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) সকালেই ফিল্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তার গোসলসহ পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই লাশ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে। তবে এক্ষেত্রে সবকিছুই রাখা হয়েছে এক প্রকার গোপন। কারণ করোনাসন্দেহে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মহিউদ্দিনের ক্ষেত্রে তা হয়নি।

মহিউদ্দিনের এক নিকটাত্মীয় চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, ‘সোমবার তিনি (মহিউদ্দিন) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে। সেখানে প্রচণ্ড ভীড় দেখে তিনি বাসায় ফিরে যান। ইফতারের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি নগরীর মেহেদীবাগে ম্যাক্স হসপিটালে গিয়ে আইসিইউ সাপোর্ট চান। কিন্তু শ্বাসকষ্ট এবং সর্দি শুনে ম্যাক্স হসপিটাল তাকে চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। উপায় না দেখে তিনি সিটি গেইট সংলগ্ন করোনা ফিল্ড হসপিটালে চলে যান। ফিল্ড হসপিটালে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।’

Din Mohammed Convention Hall

‘মঙ্গলবার সকালে ফিল্ড হসপিটালেই লাশের গোসল দেওয়া হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে যে প্যাকেট ব্যবহার করা হয় ফিল্ড হসপিটাল থেকে সেই প্যাকেটে লাশ আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশখালী নিয়ে জানাজা শেষে আমরা দাফন করি’— জানান ওই নিকটাত্মীয়।

সরকারি কড়া নির্দেশ থাকার পরও ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার বিষয়ে ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই। তাছাড়া করোনার লক্ষণ থাকলে অন্য রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আমরা করোনার জন্য ডেডিকেটেড হসপিটালে রেফার করি।’

এদিকে মহিউদ্দিনের করোনা পজিটিভ আসলে তার সংস্পর্শে আসা অন্যান্য কর্মকতাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠাবেন জানিয়ে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মহিউদ্দিন সাহেবের সংস্পর্শে যারা আসছেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে আমাদের তত্ত্বাবধানে আমরা করোনা টেস্ট করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এর আগে সোমবার রাতে মহিউদ্দিনের সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছে জানিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মহিউদ্দিন সাহেব ফৌজদারহাট ফিল্ড হসপিটালে গিয়ে আমাকে জানালেন উনি অসুস্থ। উনার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। তখন জেনারেল হাসপাতালে চলে আসতে বলেছি। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টায় খবর এলো তিনি মারা গেছেন। উনি যে অসুস্থ বিষয়টি গোপন রেখে কাজ করেছেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্ভব রকম একটা ডেডিকেশন ছিল তার। আগ থেকেই তিনি এমন ছিলেন। নিজের কোন সমস্যার কথা কাউকে শেয়ার করতেন না।’

করোনায় কিংবা করোনার লক্ষণ নিয়ে কেউ মারা গেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মহিউদ্দিনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না বাঁশখালীর প্রশাসন। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘মঙ্গলবার বাঁশখালীতে শুধু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। করোনা লক্ষণ নিয়ে বা করোনায় কেউ মারা গেলে থানাকে জানানো হয়, লাশ দাফনে সহায়তা চাওয়া হয়। মহিউদ্দিন সাহেবের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি আমাদের।’

জানা গেছে, মহিউদ্দিন সর্বশেষ শনিবারও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন। জ্বর-সর্দি থাকার পরও কাজের চাপে তিনি করোনা টেস্ট করাতে পারেননি। তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ডিওএইচএস এলাকায় বসবাস করতেন। তার এক ছেলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে এবং অপর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। সোমবার পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়েছে।

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm