প্রাণঘাতী করোনার থাবায় চট্টগ্রামে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। গত এপ্রিলে মাত্র ৩৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা কম।
পরিসংখ্যান মতে, আদায় হওয়া ভ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৩৫ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৫ শতাংশ ভ্যাট কম আদায় হওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে সরকারি সাধারণ ছুটি এবং লকডাউনকে।
এপ্রিলে চট্টগ্রামে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন দাখিল করেছেন ৩ হাজার ৯০০ ব্যবসায়ী। তারা সরকারকে ৩৭৫ কোটি টাকা ভ্যাট জমা দিয়েছেন।
ভ্যাট আদায় কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার এনামুল হক বলেন, দেশে এ দুর্যোগ মুহূর্তে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকারি অনেক প্রকল্পের কাজও বন্ধ। এ খাত থেকে প্রতিমাসে ২৫০ কোটি টাকা ভ্যাট পেতাম। এবার কিছুই পেলাম না। তেল রপ্তানি থেকে ভ্যাট আদায় কমেছে। সরকারি সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কারণে ভ্যাট আদায় এত কম হয়েছে।
এনবিআরের তথ্যমতে, শুধুমাত্র ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে সরকারি সাধারণ ছুটির সময়ে সীমিত আকারে ভ্যাট সার্কেল অফিসগুলো শুক্রবারও (১৫ মে) খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া গত মাসের ১২ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম ভ্যাট অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোনো রকম জরিমানা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ভ্যাট জমা দেন। তবে করোনার মধ্যে ভ্যাট অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলেছেন তারা। এ কারণে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই করোনা ভাইরাসের এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা জরিমানা ছাড়াই বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
কিন্তু এনবিআর বলছে, আইনি বাধ্যবাধকতা আর জরিমানা ছাড়াই এনবিআরের আওতাধীন এলটিইউসহ ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট এবং ২৫২টি ভ্যাট সার্কেল একদিনের জন্য সীমিত আকারে অফিস খোলা রাখা হয়।
সূত্র জানায়, প্রতিটি সার্কেল অফিসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করা হয়। এসময় প্রতিটি সার্কেলে কার্যক্রম চালানো হয় করোনা প্রতিরোধের সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিশেষ করে কর্মকর্তারা পিপিই পরে রিটার্ন জমা নেন। আর প্রবেশের সময় করদাতাদের হাত ধোঁয়ার জন্য স্যানিটাইজার রাখা হয়। জনসমাগম এড়াতে রিটার্ন দাখিল শেষে দ্রুত অফিস ত্যাগ করতে বলা হয় সবাইকে।
এনবিআরের তথ্যমতে, সরকারি নির্দেশনার কারণে ২৫ মার্চ থেকে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু নতুন মূসক আইন অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
করদাতাদের জরিমানা এড়াতে ও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এনবিআর শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ভ্যাট রিটার্নের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। যাতে বলা হয়, ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এএস/এএইচ




