কক্সবাজারে করোনা রোগী, এক এলাকা লকডাউন

0

কক্সবাজারে করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া প্রথম রোগীর বসবাসের স্থানসহ বিশাল একটি জায়গা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকা থেকে কেউ বেরোতে পারবে না, আবার বাইরে থেকে কেউ ঢুকতেও পারবে না।

ঢাকা থেকে ৬৫ বছর বয়সী ওই নারীর রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ আসার পর পরই মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ উল্লাহ মারুফের নেতৃত্বে ওই রোগীর বসবাসের স্থানসহ আশেপাশের বড় একটি জায়গা ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের আওতায় রয়েছে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ টেকপাড়া পাহাড়তলী রোডের কচ্ছপিয়া পুকুরের মোড় থেকে পশ্চিমে খোরশেদ ভবনের সামনে হয়ে পল্লবী লেইন। পুরো এই এলাকাটি লকডাউন ঘোষণা করে ইতিমধ্যে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল পতাকা। পাশাপাশি লকডাউন ঘোষিত ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। আর মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে চলছে মাইকিং।

লকডাউন ঘোষিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।
লকডাউন ঘোষিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজারে শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী গত ১৫ মার্চ সৌদি আরব থেকে ফিরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সদর হাসপাতালে চিকিৎসার একপর্যায়ে ৬৫ বছর বয়সী ওই নারী রোগীর মাঝে করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তার রক্তের নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হলে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর থেকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওই নারীর অবস্থান করা এবং যাতায়াত করা সকল স্থানে বসবাসকারীদের মাঝে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত মহিলাটি তার সন্তানসহ সৌদি আরব থেকে ওমরা হজ পালন শেষে গত ১৩ মার্চ দেশে আসেন। এরপর কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কস্থ সিকদার মহল সংলগ্ন পশ্চিম পাশের বাই লেইনে পল্লবী সড়কে তার কন্যার ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। পরে সেখান থেকে যান দক্ষিণ টেকপাড়ায় আরেক ছেলের শ্বশুরবাড়িতে। পরে টেকপাড়া থেকে গত ১৮ মার্চ অসুস্থ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই মহিলাকে।

২২ মার্চ ওই নারীর রোগের লক্ষণে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ধারণা করে স্যাম্পল টেস্ট করতে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ল্যাবে পাঠানো হয়। রিপোর্টে ওই মহিলার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে লকডাউন ঘোষণার সময় কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির, ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন