ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কম্পনে জামালখানের মানুষ আতঙ্কে নেমে এল রাস্তায়

0

শনিবার (২৬ অক্টেবার) সকাল ৮টা। অন্যদিনের মতোই চট্টগ্রামের জামালখান চেরাগী মোড় এলাকা মানুষজন যে যার কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ প্রচণ্ড ভাইব্রেশনে (কাঁপুনি) কাঁপতে শুরু করলো আশপাশের সকল স্থাপনা। মানুষজনের মধ্যে ভূমিকম্প আতংক ভর করলো। কেউ কেউ বাসা ছেড়ে রাস্তায় নেমে এলো তীব্র আতঙ্কে।

কিন্তু রাস্তায় নেমে দেখে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ নয়, ওয়াসার তৈরি করা দূর্যোগ! চট্টগ্রাম ওয়াসা দুই দিনে আগে চেরাগী পাহাড় সংলগ্ন সড়কে ওয়াসা খোঁড়াখুড়ির কাজ শুরু করেছে। তৃতীয় দিনে তাদের স্টিল পাইলিং করার যে মেশিন তার ভাইব্রেশনে রাস্তার ফুটপাতে আস্তর, আশপাশে বিল্ডিংয়ের আস্তরও খসে পড়ছিল।

এলাকাবাসী ওয়াসার কাজে নিয়োজিতদের জিজ্ঞেস করলে তারা জবাব দিলো এখানে মাটি শক্ত তাই এমন ভাইব্রেশন হচ্ছে। আতঙ্কিত মানুষজনের ভয়ার্ত প্রতিবাদের মুখে সকাল সাড়ে দশটায় কাজ বন্ধ করলো তারা। তবে দুপুর দেড়টায় আবার কাজ শুরু করে।

ওয়াসার পাইলিং মেশিনের ভাইব্রেশনে জামালখানে রাস্তার ফুটপাতে আস্তর, আশপাশে বিল্ডিংয়ের আস্তরও খসে পড়ছিল।
ওয়াসার পাইলিং মেশিনের ভাইব্রেশনে জামালখানে রাস্তার ফুটপাতে আস্তর, আশপাশে বিল্ডিংয়ের আস্তরও খসে পড়ছিল।

পার্শ্ববর্তী স্যানমার স্প্রিং গার্ডেনের বাসিন্দা আলী আজগর জানান, ‘সকালে তীব্র কম্পন অনুভব হওয়ায় আমরা ভূমিকম্প ভেবে রাস্তায় নেমে আসি। এসে দেখি ভূমিকম্প নয়, ওয়াসার কাজের ভাইব্রেশন। আমাদের আপত্তির মুখে তারা কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ রেখেছিল। তবে দুপুরে আবার কাজ শুরু করেছে। আমরা আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমনকে ফোনে পাইনি।’

তবে জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাস সুমন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে গতকাল চট্টগ্রামের বাইরে এসেছি। গতকাল পর্যন্ত কোন সমস্য কিংবা অভিযোগ পাইনি। আজ আপনাদের কাছে শুনে প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। উনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।’

প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই মেশিনে একই প্রক্রিয়ায় পুরো চট্টগ্রামে কাজ হচ্ছে। আস্তর বিল্ডিং নির্মাণে স্ট্রাকচারাল বিষয় নয়। এই ভাইব্রেশনে কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।’

জামালখানের মানুষ রাস্তায় নেমে দেখে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ নয়, ওয়াসার তৈরি করা দূর্যোগ!
জামালখানের মানুষ রাস্তায় নেমে দেখে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ নয়, ওয়াসার তৈরি করা দূর্যোগ!

তবে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওয়াসার প্রজেক্ট-৫ এর অধীন এই কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে চীনের একটি কোম্পানি। তাদের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে এই কাজ করছে দেশীয় ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। তারা ইস্পাতের শিট পাইলিংয়ে ব্যবহার করছে ‘হাইড্রোলিক শিট পাইল ভাইব্রো হ্যামার মেশিন’। আর বিপরীতে জাইকা ব্যবহার করে ‘সাইলেন্ট পাইলিং’ মেশিন। যাতে ভাইব্রেশনের মাত্রা অনেক কম, হয় না বিকট কোন শব্দও।

এ ব্যাপারে প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আশপাশের স্থাপনাগুলো স্ট্রাকচারাল কনডিশন কী, ভাইব্রেশনের মাত্রা কত— তা না বুঝে বলা যাবে না যে ক্ষতি হবে কী হবে না। ক্ষতি হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে ওই দুটি বিষয়ের ওপর। তাই যারা কাজ করছেন তারা দুটো বিষয় নিশ্চিত হওয়া উচিত।’

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন